নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
সিলেট-৪ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম অভিযোগ করে বলছেন, সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম নির্যাতন-নিপীড়ন অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তারা নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে চাচ্ছে।
শুক্রবার সকালে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনের এই প্রার্থী বলেন, 'বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের উপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা অতীতের সকল রেকর্ডকে হার মানিয়েছে। তিন উপজেলায় প্রায় ২৫০ নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্তত ১০টি গায়েবি মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ছাড়া করা হয়েছে।'
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত তিনি বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভাটিও আমাকে করতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জাফলং আমির মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভায় যোগ দেয়ার জন্য আমি সিলেট শহর থেকে রওয়ানা দিয়ে গোয়াইনঘাট আসলে পুলিশ আমার গাড়ির গতিরোধ করে। তারা গাড়িতে আমার নেতাকর্মীর সাথে অশুভ আচরণ করে।'
তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পর্যায়ক্রমে পুলিশ ও বিজিবি তার গাড়ির গতিরোধ করে হয়রানি করে বলেও তার অভিযোগ।
'তারা আমাকে জনসভায় যেতে বাধা দেয়। তারা আমাকে আবার শহরের দিকে ফিরিয়ে দেয়।' বলেন দিলদার।
তিনি বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী রাধানগরে আমার গ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। শেষ নির্বাচনী পথসভার মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভেঙে দিয়েছে। অথচ আমি গত ৮ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাচনী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জনসভার বিষয়টি অবগত করেছি।'
বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা তার লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, পুলিশ তার দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। ধানের শীষের প্রচারণা চালাতে গেলেই তারা বাধা দিচ্ছে। কোথাও পোস্টার লাগাতে দেয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজেরা নিজেদের নির্বাচনী কার্যালয় ও প্রচারগাড়িতে ককটেল ফুটিয়ে আমাদের উপর দায়ভার দিচ্ছে। পুলিশ এসব ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীদের উপর মামলা দিচ্ছে।
নির্বাচনের কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই তাকে প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্নভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে দিলদার বলেন, বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি।
'গত বিজয় দিবসের দিন নোয়াগাঁও মসজিদের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা শামীমের নেতৃত্বে তার বাহিনী আমার উপর হামলা চালায়। এতে আমার গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাৎক্ষণিক আমার নেতাকর্মীরা আমাকে রক্ষা করেন,' বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সিলেট-৪ আসনের ভোটাররা সকল ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিয়ে তাদের নিরব বিপ্লব ঘটাবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।