Sylhet Today 24 PRINT

মুক্তাদিরের পরিকল্পনাকেও আমি গুরুত্ব দেবো: ড. মোমেন

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

দেবব্রত চৌধুরী লিটন |  ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন ড. একে আব্দুল মোমেন। জয়ের পর রোববার রাতে নিজের বাসায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম'র সাথে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এই অনুজ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা। বলেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির খন্দকার মুক্তাদিরের উন্নয়ন পরিকল্পনাকেও গুরুত্ব দেবেন তিনি।

সিলেটটুডে: সিলেট-১ আসনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই আপনি বড় ব্যবধানে জয়। পেলেন। কেমন লাগছে?
   
ড. একে আব্দুল মোমেন: আমার তো আনন্দ লাগছেই। আমি কৃতজ্ঞ আমাদের সভানেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ও আমার দলের প্রতি তারা আমার প্রতি আস্থা রেখে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমি আমার সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ তারা আমাকে আস্থা রেখে উৎসাহ ভরে ভোট দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। আমার দলের শত শত সমর্থক তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন অন্যদের জ্বালানি-পুড়ানোতেও তারা কোন প্রতিহিংসামূলক কাজ করেন নি। এজন্য আমি নিজেকে খুব ধন্য মনে করছি। আমার পরিবারের সবাই এক সাথে আমাকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন এতে আমি খুবই আনন্দিত। আমি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দোয়া চাই। সেই প্রত্যাশা আমি যাতে পূরণ করতে পারি।

সিলেটটুডে: দায়িত্ব নিয়ে কোন বিষয়টিকে আপনি সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেবেন?

ড. একে আব্দুল মোমেন: আমার অনেকগুলো প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমি বিগত ৩ বছর ধরে কাজ করছি। সেগুলো যাতে তরান্বিত হয় সে লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করবো। সিলেটে সত্যিকারের একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, সিলেট সদর হাসপাতালকে ২ শত ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, ঢাকা-সিলেট ছয়লেন সড়ক, সিলেট চট্টগ্রামের উন্নত মানের রেলওয়ে যোগাযোগ, বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ, দৃষ্টি নন্দন সিলেট করা, বৃহত্তর সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, সিলেট নগরকে আরো বড় করার আমার দেয়া প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কাজ করবো যাতে নগরটি ৮ গুণ বড় হয়। আমার কিছু রিং রোড করার চিন্তা আছে, এর পাশাপাশি কয়েকটি ফায়ার ষ্টেশন করার চিন্তা আমার রয়েছে যাতে করে অগ্নিনির্বাপণ সহজে করা যায়। এছাড়াও নগরীর ধোপাদিঘী যাতে আরো দৃষ্টি নন্দন করা যায় এ জন্য কাজ আমি হাতে নিয়েছি। লোকের যাতে চাকরী হয় সেজন্য বিমান বন্দরের পাশে বেসরকারি ইকোনমিক জোন করার চেষ্টা করছি এটিকে তরান্বিত করা। আমার ডিজিটাল সিলেট সিটি যাতে বাস্তবায়িত হয়, আইসিটি পার্ক যাতে বাস্তবায়িত হলে সিলেটে অনেক মানুষের চাকরি হবে। নিরাপত্তা বোধও বাড়বে। এই একাধিক পরিকল্পনা আমার হাতে আছে। ২ শত শয্যার মহিলা ও শিশু হাসপাতাল করা। সম্প্রতি মহা পরিচালক (স্বাস্থ্য) সিলেটে এসেছিলেন, এ নিয়ে উনার সাথে আমার কথাও হয়েছে। আমি কিছু কাজ করতে চাই। সেজন্য সবার সহযোগিতা আমার প্রয়োজন হবে।

সিলেটটুডে: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বিশেষত বিএনপির প্রার্থীর সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

ড. একে আব্দুল মোমেন: গণতন্ত্রে বিভিন্ন লোকের মত থাকবে। এখানে একজনের মত পর্যাপ্ত নয়। আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই কারণে তাদের দল সেই রকম বেশী প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়নি। যদিও তারা বলেছিলেন একটা-দুইটা লাশ যা আমি শুনেছি পত্রপত্রিকার মারফতে, এটা দুঃখজনক। আমরা কোন লাশ চাই না। আমি প্রথম থেকেই বলেছি আমরা সম্প্রীতির সিলেট। আমাদের প্রায় ৫৮ জন লোক আহত হয়েছে। আমি তাদেরকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। যাদের মধ্যে সিলেট-১ আসনের মাত্র ৫/৬ জন রয়েছেন। কেউ নিহত হন নাই। এজন্য আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে আমি ধন্যবাদ জানাই। যারা আহত হয়েছেন এদের মধ্যে মাত্র ৩ জন রয়েছেন বিএনপির কর্মী-সমর্থক। বাকি ৫৫ জন আওয়ামী লীগের আহত হয়েছেন।

আমি আশা করবো উনার সাথে মিলে এক সাথে কাজ করবো। উনার যদি কোন পরিকল্পনা থাকে তাহলে সেটাকে গুরুত্ব দেব। আওয়ামী লীগ সরকার সব মানুষের জন্যে। সকল নাগরিকের জন্যে। আওয়ামী লীগ যখন রাস্তা তৈরি করে, বাতি দেয়, স্বাস্থ্য সেবামূলক কাজ করে কোন সময় বলে না এটা শুধু আওয়ামী লীগ পরিবারের। বলে এটা সকল নাগরিকের। এই সরকার সরকারে আছে বলে যে বিএনপি করে সকাল-বিকাল আওয়ামী লীগ সরকারকে দোশারোপ করে তারও জীবনের নিরাপত্তা বেড়েছে। তারও ছেলে মেয়ে স্কুল-কলেজে নিরাপদে যাওয়া আসা নির্বিঘ্নে করতে পারে। তাদের কোন বোমাবাজির, গ্রেনেড হামলার ভয় নেই। আওয়ামী লীগ সবার জন্য সকল মানুষের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সিলেটটুডে: আপনাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।
 
ড. একে আব্দুল মোমেন: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.