Sylhet Today 24 PRINT

সংসদে ইলিয়াস আলীর সন্ধানে তদন্ত কমিটির দাবি জানাবেন মোকাব্বির

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

প্রথমবারের মতো নির্বাটচনে অংশ নিয়েই চমক দেখিছেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান। সিলেট-২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। যার প্রার্থী হওয়াই ছিলো অনিশ্চিত, এমন বৈরি স্রোতে তাঁর এমন জয় নিয়ে আলোচনা সর্বত্র।

জয়ের পর সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপকালে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মোকাব্বির খান। বলেছেন, ইলিয়াস আলীর সাথে তাঁর রাজনৈতিক পার্থক্য থাকলেও উনি একজন ভালো মানুষ। সংসদে ইলিয়াস আলীর সন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাবেন বলেও জানিয়েছেন মোকাব্বির।

কেমন লাগছে এখন?
নির্বাচনী এলাকায় এলাকায় মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। এজন্য তারা উৎফুল্ল। কিন্তু সারা বাংলাদেশের যে চিত্র, এই চিত্র দেখে আমি উৎফুল্ল হতে পারছি না। আমি পুনঃনির্বাচন চাই। তাছাড়া আমি মাত্র ৩/৪ দিন সময় পেয়েছি জনগণের কাছে পৌঁছাতে। এই কম সময়ের মধ্যে জনগণ আমার জন্য যা করেছে, যে ভাবে ভোট দিয়ে তারা বিজয়ী করেছে এজন্য আমার এই বিজয়ের অভিনন্দন জনগণেরই প্রাপ্য।


এতো কম সময়ে জনগণ আপনাকে গ্রহণ করেছে তাঁর কারণ কি হতে পারে?

গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে জনগণ আমাকে অতি কম সময়ে গ্রহণ করার কারণ হচ্ছে, গণফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। আর আমি উনার সাথে প্রায় ২৫/৩০ বছর কাজ করেছি। তাছাড়া জনগণ দেখেছেন আমি একজন ভালো মানুষ। আমার বিরুদ্ধে কারো কোন অভিযোগ নেই। আমার এ জয়ে প্রথম কৃতজ্ঞতা জনগণের। এর পর যার অবদান তিনি হচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। উনি যখন টেলিফোনে এলাকার মানুষকে বললেন, উনাকে ভোট দিন। আমরা এমন মানুষকে মনোনয়ন দিয়েছি যিনি কোন দিন কোন দুর্নীতি করেননি এবং করবেনও না। আর  আরো একটি বিষয় হলো সারা বাংলাদেশে যত প্রার্থী আছেন সকল প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে আমি জয়ী হয়েছি। কারণ আমি জনগণকে বলেছি আমার এতো টাকাপয়সা নাই, আর থাকলেও আমি আপনাদের দিতে পারবো না। কারণ যে লোক আজ আপনাকে ৫ হাজার আটকা দিবে পরে সে ৫০ হাজার টাকা আদায় করবে। তাই আমাকে আপনারা ভোট দিবেন ফি-সাবিলিল্লাহ। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে আপনারা যে কোন কাজে আমার কাছে গেলে কখনো এটা বলার সুযোগ পাবেন না যে মোকাব্বির হোসেন আপনাদের কাজ করেনি। এবং আমি বলেছি আমার কোন প্রতিনিধি থাকবে না। যদি কেউ কখনো আমার প্রতিনিধি পরিচয় দেয় তাহলে তাঁকে দুই পসারও মূল্যায়ন দিবেন না। বরং কোন কাজ হলে সরাসরি আপনারা আমার কাছে আসবেন, আমি যদি করতে পারি তাহলে আপনারা যেরকম ফি-সাবিলিল্লাহ আমাকে ভোট দিচ্ছেন ঠিক একই ভাবে আপনাদের কাজও আমি ফি-সাবিলিল্লাহ কাজ করে দিব। এসব বিষয় খুবই কাজ দিয়েছে। এগুলো মানুষও বিশ্বাস করেছে।

আপনি কতো দিন থেকে প্রবাসে আছেন?

আমিতো আসা যাওয়ার মাঝে আছি। আর আমি ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে রাজনীতির সাথে আছি। আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে শুরু করেছিলাম, আমি আওয়ামী লীগ করেছি, গণতান্ত্রিক ফোরাম করেছি, যখন প্রথম গণতান্ত্রিক ফোরাম হয় তখন গণতান্ত্রিক ফোরাম ইউকের সচিব ছিলাম, পরে যখন গণতান্ত্রিক পার্টি হয় তখন আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার করা হলো, তাঁর পরে আমাকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হলো, পরে যখন ঐক্যফ্রন্ট গঠন হয় তখন ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ব্যাপারে আমার বড় একটা ভূমিকা ছিলো। এটা আমাদের নেতৃপর্যায়ের যারা আছেন তারা সকলেই জানেন। এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেই বলেছেন, মোকাব্বির সাহেবের অবদানের স্বাক্ষি আমি নিজে। এসব বিষয়ই মূলত আমার জয়ের কারণ। আর কামাল হোসেনের গুণাবলি, উনার আদর্শ, এবং ড. কামাল হোসেন নিজেই বলতেন, আমি মোকাব্বিরের ব্যাপারে এতটুকু বলতে পাড়ি, যে হাজার কোটি টাকা দিয়েও তাঁকে কেউ কিনতে পারবে না। একদিন সাংবাদিকরা কামাল হোসেনকে বলেছিলেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের টাকায় কেনাবেচা করা যায়। তখন উনি অনেক সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন, ঠিক আছে আমি ব্যাংক চেক স্বাক্ষর করে দিচ্ছি। কয় শত কোটি টাকা দিয়ে উনাকে কিনবেন? দেখেন উনাকে এক পা এদিক সেদিক করতে পারেন কি না। তাই কাম হোসেনের দেয়া এই সার্টিফিকেটটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তাই আমি সকলকে বলেছি আমার এমপি বলেন, মন্ত্রিত্ব বলেন কোন কিছুরই এক পয়সার মূল্য নাই। আমি আমার আদর্শ ধরে রাখতে চাই। আমি এটাও বলেছি, আমার আগে পিচে কোন জিন্দাবাদ, মুর্দাবাদ কোন কিছুই থাকবে না। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে থাকবো। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে থেকে যা করা যায় তা করবো। আর আমি এরকম মানুষ যারা জিন্দাবাদ করতে চায় তাদের সরিয়ে দিয়েছি। অনেকে আমাকে বলেছে এতে আমার ভোট কমবে। আমি বলেছি আমার ভোট কমলেও কিছু করার নাই। আমার এমন লোকের ভোটের প্রয়োজন নাই। তারা যদি আমার সাথে আজ থাকে কাল তারা আমাকে বলবে আমি আপনার জন্য এই করেছি সেই করেছি আপনি আমার জন্য এটা করেন। তখন আমার শার্টের পিছন ধরে টান দিবে। এবং আমি জনগণকে বলেছি আজ আমি ৫ হাজার টাকা কাওকে দিলে পরে এগুলো আমার সংগ্রহ করতে হবে। তাই আপনারা টাকার বিনিময় নয় ভালোবেসে ভোট দিন আমিও আপনাদের আগামী দিনের সকল কাজ ভালোবেসে করবো। এইসকল কাজ মানুষ এতো দ্রুত বিশ্বাস করেছে। বিদ্যুৎ এর গতিতে কাজ করেছে। মাত্র চার দিনে মানুষ আমাকে এভাবে গ্রহণ করবে আমি চিন্তাও করিনি। পৃথিবীর কোন দেশে এমন ঘটনা আছে বলে আমার মনে হয় না। তাই আমি বলবো ড. কামাল হোসেনের নীতি আদর্শের প্রতিচ্ছবি হয়তো মানুষ আমার মধ্যে আশা করেছে। এখানে ব্যক্তি মোকাব্বিরের কোন ভূমিকা নেই বলে আমি মনে করছি।

প্রথম দিকে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন আপনি পাননি, এখানে তাহসিনা রশিদ লুনা ছিলেন। হাইকোর্ট উনার মনোনয়ন বাতিলের পর আপনি ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন পান। এ ক্ষেত্রে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন?

অবশ্যই। কিছুটা ভাগ্যবান না হলে কি এমন হয়। আমিতো ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। পরে আমার না হওয়ায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে অভিনন্দন এবং সমর্থন দিয়ে চলে গিয়েছিলাম। এবং স্যারকে বলেছিলাম আমি কিছু ব্যবস্যাটেবসা করে আসি। এ বছর আমার চার বার আসা হয়েগেছে। তখন উনি (কামাল হোসেন) বললেন আর একটুও অপেক্ষা নয় আপনি চলে যান। যখন গেলাম এর পর আবার আমাকে স্যার (কামাল হোসেন) এবং অন্যরা ফোন করে বললেন আপনি দেরি না করে চলে আসুন। তখন আমি দেশে এসে একটা ঝুঁকি নিলাম। ভাবলাম দেখি মানুষ আমাকে কি ভাবে গ্রহণ করে। কামাল হোসেনকে কি ভাবে গ্রহণ করে। আমি আসার সাথে সাথে ফোনে কামাল হোসেন একটা বক্তব্য দিলেন। এর পর থেকেই এবং বিএনপি সমর্থন দেয়ার পর আমার জনসমর্থন বিদ্যুৎ এর গতিতে ছড়িয়ে পড়লো।

আপনার বাড়ি কোথায়?

আমার বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলায়। ওসমানীনগর থানা থেকে প্রায় ৩ মাইল দূরে হবে। কিন্তু একটা সুবিধা ছিলো আমি মঙ্গলচণ্ডী নিশিকান্ত হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম। এ কারণেই আমি ওই এলাকায়ও বিরাট পরিমাণ ভোট পেয়েছি।

আপনি গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে কি ভাগ্যবান?

আমি গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে যেটা বলবো, যারা গণফোরামের রাজনীতির সাথে আছেন, আমরা সাতাশ বছরে সূর্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। এতো আতঙ্কের মধ্যে মানুষ এতো ভোট দিয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছে যা আমাদের জন্য অর্জন, যোগ করেন তিনি। এজন্য সন্ত্রাস মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত, সুন্দর ভবিষ্যতমুখী রাজনীতি যদি আমরা করি তাহলে ১০০ জন প্রার্থী হলেও সকল প্রার্থী বিজয়ী হবে।

আপনিত ইংল্যান্ডের কোন শহরে ব্যবসা করেন?

আমি ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে ছোট্ট একটা ব্যবসা চালাই।

আপনি নির্বাচন থেকে সরে প্রবাসে গিয়ে কতো দিন পরে আবার আসলেন?

৭ দিন পর আসলাম। আমি সব সময় চেলেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। এবারও তাই হয়েছে। তবে এবার এতো দ্রুত কাজ হবে ভাবিনি। তবে এটাই ভাবলাম উনার (কামাল হোসেনের) আদর্শ, মূল্যবোধ মানুষ কতটা গ্রহণ করে। এই ভেবেই আমার আসা। আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো রাজনীতিতে আমাদের যে অনেক আদর্শবান পুরনো রাজনীতিবিদ আছেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাষানী, শেরেবাংলা ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজ উদ্দিন সাহেব, জেনারেল ওসমানী সাহেব, আমাদের চোখের সামনে নীতিবান এমন অনেক আছে যাদের আদর্শ অনুসরণ করলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে।

আপনি যে আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এ আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী সাবেক এমপি ছিলেন। উনার জনসমর্থন আপনার জন্য সহায়ক হয়েছে কি না?

উনার রাজনীতি আর আমার রাজনীতির পার্থক্য আলাদা। কিন্তু উনার ব্যাপারে মানুষের মারাত্মক আবেগ আছে। উনি কতো ভালো মানুষ ছিলেন সেটা যদি আমি নাও বলি তবুও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে উনাকে যে ভাবে গুম করা হলো তা আন্তর্জাতিক ভাবে অপরাধ। আমি চাইবো এ ব্যাপারে একটা কমিটি করে, উনার পরিবারের, উনার মায়ের এবং এলাকার মানুষের যে চাহিদা উনি কোথায় আছেন সে খোঁজ বের করা সে ক্ষেত্রে কাজ করা। কেন আইন বেতিরেখে তাঁকে গুম করা হবে? এটাতো একটি মহা অন্যায়। এটা সংবিধান বহির্ভূত কাজ, মানবতা বহির্ভূত কাজ। আমি দাবি রাখবো তাঁর সন্ধানে একটা তদন্ত কমিটি হোক। এটা শুধু ইলিয়াস আলীর না, এটা সংগ্রহ জাতির, যারা গুম হচ্ছে প্রত্যেকের পরিবারের দাবি তাদের সন্ধান পাওয়া। এবং যারা গুম হচ্ছে তাদেরকে গুম করার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।

ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনাকেও ধন্যবাদ, আমার মতো সাধারণ মানুষের কথাগুলো শোনার জন্য আমি নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করছি। এবং পত্রিকা মাধ্যমে আমি আমার আসনের সকলকে কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই। একই সাথে আমার দায়িত্ব পালনে সকলের দোয়া এবং সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।   

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.