নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ জানুয়ারী, ২০১৯
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না কিছুতেই। ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকায় বন্ধ হচ্ছে না মৃত্যুর মিছিলও। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাইে টিলা ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সোমবার বিকেলে শাহ আরেফিন টিলা ধসে মারা যান দুই শ্রমিক। নিহতরা হলেন- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আনুয়ার হোসেনের ছেলে সোনা মিয়া (২৫) ও ওয়াজিদ আলির ছেলে নুরুল হক (৩০)।
এদিকে, একই উপজেলার ভোলাগঞ্জে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানকালে সোমবার টাক্সফোর্স সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছে পাথর ব্যবসায়ীরা। এতে বিজিবি সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার কিলে ৩টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত দুই জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারীতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। আদালত ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণায়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে। টিলা ও নদীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গর্ত খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। ফলে প্রয়ায়ই গর্ত ধসে মারা যায় শ্রমিক। গত একবছরে সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে গর্ত ধসে মারা গেছেন ৫৪ শ্রমিক। এরমধ্যে শাহ আরেফিন টিলা ধসেই মারা যান অন্তত ২০ জন। সর্বশেষ সোমবার মারা যান দুই জন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, টিলা ধসে দুইজন মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, লাশ গর্তের পানির নিচে পড়ে আছে বলে স্থানীয়রা বলেছে। সকালের আগে লাশ অনুসন্ধান সম্ভব নয়।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অবৈধ পাথর উত্তোলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে টাক্সফোর্স। এসময় টাস্কফোর্সের উপর হামলা চালায় পাথর ব্যবসায়ীরা।
ইউএনও মোহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোমবার বেলা ১টা থেকে টাস্কফোর্সের অভিযান শুরু হয়। অভিযানের শেষপর্যায়ে পাথরখেকোদের সংঘবদ্ধ একটি চক্র টাস্কফোর্সের ওপর হামলা চালায়। এতে টাস্কফোর্সের ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিজিবি সদস্য, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং আমাদের কর্মচারীরা রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে জড়িত, তারাই এ হামলা চালিয়েছে। আমরা হামলাকারীদের পরিচয় সংগ্রহের চেষ্টা করছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানান, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ কোয়ারি ও শাহ আরেফিন টিলা কেটে দীর্ঘদিন থেকেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে একটি গোষ্ঠি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অভিযান চালালেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ পাথর উত্তোলন।