মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট | ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯
সিলেটের গোয়াইনঘাটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ শেষ হতে না হতেই আবারও নির্বাচনী বৈতরণী শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ডামাঢুল। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় রয়েছে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। আর প্রার্থীদের এ প্রতিযোগিতায় এখন থেকেই জনসাধারণের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এ নির্বাচনে এবার জয়ের লক্ষ্যে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এমনটাই মনে করছেন সকলে।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সবকটি গ্রাম হাট বাজার, অলিগলিও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের লাগানো পোষ্টার ফেস্টুনে ভরে উঠছে। প্রচার প্রচারণা আনুষ্ঠানিক ভাবে যদিওবা শুরু হয়নি তবুও আওয়ামী লীগ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত প্রার্থীরা গ্রাম থেকে গ্রামে, হাট বাজার থেকে হাট বাজারে তাদের গণসংযোগ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শীতের প্রখরতা কিংবা কুয়াশায় ঢাকা সকালের মেঠোপথ অতিক্রম করে ভোটারদের দ্বারস্থ হয়ে একজন প্রার্থী হিসাবে আগাম শুভেচ্ছা ও ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীগণ। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রত্যাশীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন উপজেলার সর্বত্র। বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে শাদী, ওয়ালিমা, ওয়াজ মাহফিল, কীর্তন, পূজা পার্বণ কিংবা সামাজিক যেকোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীগণ তাদের স্বপক্ষে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি অনুষ্ঠান সমূহে উপহার সামগ্রী কিংবা বিভিন্ন কাজে অনুদান দিচ্ছেন কেউ কেউ।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোয়াইনঘাট থেকে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার পূর্ব জাফলং ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান লেবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক ও আলীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া, আলীরগাঁও ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবুল কাশেম মো. আনোয়ার শাহাদাত, বিএনপি থেকে ২ বারের নির্বাচিত বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হাকিম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি লেঙ্গুড়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুল হক খোকন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপনসহ একাধিক নেতা। তাদের মধ্যে লুৎফুর রহমান লেবু, আব্দুল হাকিম চৌধুরী, ফারুক আহমদ, মো. ইব্রাহিম, গোলাম কিবরিয়া হেলাল, শাহ আলম স্বপন, গোলাপ মিয়াদের নামই আলোচিত হচ্ছে বেশি।
এব্যাপারে কথা হলে উপজেলার ৫নং আলীরগাঁও ইউনিয়নাধীন পূর্ণানগর (উত্তর) গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার বাদশা জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উভয় দলের একাধিক প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারেন। তবে দল যেহেতু রাষ্ট্র ক্ষমতায় সেহেতু আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত আব্দুল হক নামের একজন নেতা জানান, যদিওবা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে সেক্ষেত্রে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী কিংবা আমাদের দলীয় মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলে আমি মনে করি। উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. তাজ উদ্দিন জানান, আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিমকে দলীয় মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হওয়া সম্ভব বলে মনে করি। গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির মনোনীত প্রত্যাশী আব্দুল হাকিম চৌধুরী জানান, দল যদি নির্বাচনে যায় এবং আমাকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে আমি নির্বাচন করব এবং ইনশাল্লাহ আমি আবারও গোয়াইনঘাটের উপজেলা পরিষদ হিসাবে বিজয়ী হতে পারব বলে আশাবাদী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা লুৎফুর রহমান লেবু জানান, বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক ছিলনা। তবে আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলাম এবং অল্প ভোটের ব্যবদানে আমি পরাজিত হই। আসন্ন নির্বাচনে আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যদি আমাকে নৌকা প্রতীকের কাণ্ডারি হিসাবে আমাকে মনোনীত করে তাহলে ইনশাল্লাহ বঙ্গবন্ধুর নৌকা পছন্দের প্রতীক বিজয়ী হয়ে এই উপজেলা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেব।
এদিকে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপনও আশাবাদী বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রতি একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসাবে কাজ করে এবং বিগত দিনগুলো একজন ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে জনগণের মন জয় করেছি। আমি মনে করি ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে আমাকে বিবেচিত করা হয় তাহলে ভোটাররা আমাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া জানান, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছি। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষেও আমি সুদূর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জননেতা ইমরান আহমদ ও নৌকার বিজয়ে বিরামহীন প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছি। আমি আশাবাদী আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যদি আমাকে নৌকা তথা আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিবেচনা করেন তাহলে বিজয়ী হতে পারব। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ, অপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা আলীরগাঁও সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম মো. আনোয়ার শাহাদাতও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হতে ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তারা উভয়ে সাংবাদিকদের জানান, দল যদি তাদের মনোনয়ন দেন তাহলে তারাই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন বলে জানান তিনি।