হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৩ জানুয়ারী, ২০১৯
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাঠখাল গ্রামে আলোচিত ৬ সন্তানের জননী ও প্রবাসীর স্ত্রী মিনারা খাতুনকে টেটাবিদ্ধ করে খুনের ঘটনায় কারাগারে থাকা ১০ আসামীর বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ পিবিআইর পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এই রিমান্ড প্রার্থনা করেন।
যাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে তারা হলেন আব্দুল আজিজ, ইয়াকুব মিয়া, ইলিয়াস মিয়া, কাওছার মিয়া, রফিকুল্লাহ, তোফাজ্জল ইসলাম, পারভেজ মিয়া, ফয়সল মিয়া, আপ্তাব মিয়া ও শোয়েব মিয়া।
যাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে তারাসহ ১২জন গত ২৩ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। এতদিন মামলাটি বানিয়াচং থানা পুলিশ তদন্ত করে। গুরুত্বপূর্ণ মামলা হওয়ায় তদন্তের জন্য মামলাটি পিবিআইয়ে প্রেরণ করা হয়। মামলায় অনেক অজ্ঞাত আসামী রয়েছে। তাদের নাম ঠিকানা বের করার জন্য ১০ আসামীর বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে দ্রুত তথ্য উদঘাটনের মাধ্যমে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে।
হবিগঞ্জের আদালত পরিদর্শক কামাল উদ্দিন জানান, ১০ আসামীর বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন পাওয়া গেছে। বিচারক শুনানির জন্য এখনও তারিখ ধার্য করেননি।
প্রসঙ্গত, কাঠখাল গ্রামের পাতনী বাড়ি ও চৌকিদার বাড়ির লোকদের সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের কাছুম আলী এবং তার লোকজনের। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ৩ নভেম্বর এই বিরোধকে কেন্দ্র করে মিনারা খাতুনের বুকে টেটাবিদ্ধ করে পাতনী বাড়ীর লোকজন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। টেটার আঘাত মিনারার হৃদযন্ত্রে স্পর্শ করায় তাকে প্রেরণ করা হয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনারাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে নিহত মিনারের ছেলে হাফেজ সাইফুর রহমান বাদী হয়ে ৫১ জনকে আসামী করে বানিয়াচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে বানিয়াচং থানা পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও পরে সেটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়।