মাইদুল ইসলাম রাসেল, সুনামগঞ্জ | ০৩ আগস্ট, ২০১৫
সুনামগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝামাঝি বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি থাকার কারণে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শহরের বিভিন্ন স্থানে টিএন্ডটি ও বিদ্যুৎ এর এসব খুঁটি ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রযেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল ও কলেজ রোডে পুলিশ সুপারের বাসভবন থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত টিএন্ডটির ১টি ও বিদ্যুৎতের ৫টি খুঁটি রয়েছে সড়কের প্রায় মাঝখানে। এছাড়া নতুন কোর্টের সামনে বড়পাড়ার রাস্তায় ২টি, ট্রাফিক পয়েন্টে ২টি, জামাই পাড়া এলাকায় ২টি, সুনামগঞ্জ পৌরসভার সামনে ২টি, নতুন পাড়ায় ২টি, বাধন পাড়ায় ২টি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে রাস্তার প্রায় মাঝখানে।
এদিকে কলেজ এবং হাসপাতাল রোডে প্রতিদিন সারা জেলার কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে। দিনরাত সব সময়ই এ রোডে যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এ পথে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের খুঁটি। প্রতিদিনই খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে কেউ না কেউ আহত হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসার কাজে দ্রুত এম্বুলেন্স চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। কলেজগামী শিক্ষার্থীরা মোটররবাইকে এ পথে চলাচল করে থাকে দ্রুতবেগে তাই যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ট্রাফিক পয়েন্ট সুনামগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র এই রাস্তইটিতে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি অনেকটাই রাস্তার ওপর চলে এসেছে এ কারণে রাস্তার প্রসস্ততা কমে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সৃষ্টি করছে যানযটের।
আমবাড়ি বাজার এলাকার শামিম আহমদ জানান, সদর হাসপাতালে তার মাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন। এ পথে অনেক দিন আসেন না তাড়াহুড়া করে হাসপাতালে যাবার সময় এসপি বাংলোর সামনে অল্পের জন্য খুঁটির সাথে ধাক্কা থেকে তাদের গাড়িটি রক্ষা পেয়েছে। সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী শাহেদা আক্তার জানায়, রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের চলাচল করতেও সমস্যা হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ এর উপ সহকারী প্রকৌশলী মো.আলাউদ্দিন বলেন, এ অফিসে শুধু বিদ্যুতের বিক্রয় ও বিতরণের কাজ করা হয়। সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন প্রজেক্ট খুঁটি বসানো ও ওঠানোর কাজ করে। এই কাজ করার এখতিয়ার সুনামগঞ্জ অফিসের নেই। তবে তিনি বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানাবেন।
সুনামগঞ্জ টিএন্ডটি'র উপসহকারি প্রকৌশলী বিকাশ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। রাস্তায় কোন পিলার থাকলে তা খুব দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।
সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের কারণে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ এবং টিএন্ডটি'র পিলার রাস্তার মাঝামাঝি চলে এসেছে। আমরা বিদ্যুৎ এবং টেলিফোন বিভাগের সাথে বসে আলোচনা করে এই পিলারগুলো দ্রুত সরানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু দু বছর হলেও তা না সরানোর কারণে রাস্তা প্রশস্ত করেও জনগণ এ সুবিধা পাচ্ছেননা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষজন প্রতিদিনই এ বিষয়ে অভিযোগ করছেন।