Sylhet Today 24 PRINT

কয়লা সঙ্কট কাটছে: ফের শুরু হচ্ছে মেঘালয় থেকে আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৩ আগস্ট, ২০১৫

আবারো শুরু হচ্ছে ভারতীয় কয়লা আমদানি। সম্প্রতি ভারতীয় ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল মেঘালয় থেকে উত্তোলিত কয়লা রফতানির অনুমতি দেন। ট্রাইব্যুনালের এ নির্দেশের ফলে ভারত থেকে কয়লা আমদানি-সংক্রান্ত সৃষ্ট জটিলতার অবসান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতি জানায়, চলতি সপ্তাহ থেকে বিভাগের পাঁচটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হবে।

কয়লা আমদানিকারক সমিতি সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতি বছর কয়লার চাহিদা প্রায় ৪০ লাখ টন। এর মধ্যে ভারত থেকে আমদানি হয় ৩০ লাখ টন। ২০১৪ সাল থেকে ভারতের আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ হয় দেশটি থেকে কয়লা আমদানি। এতে বিপাকে পড়ে কয়লার ওপর নির্ভরশীল শিল্পগুলো। থেমে থেকে স্বল্প পরিমাণে আমদানি হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল।

গত ৩১ জুলাই ভারতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল জানায়, মেঘালয়ের উত্তোলিত কয়লা রফতানির ওপর উচ্চ আদালতের কোনো আপত্তি নেই। ফলে ভারত থেকে ফের শুরু হতে যাচ্ছে কয়লা আমদানি।

এ ব্যাপারে সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি ফালাহউদ্দিন আলী আহমদ জানান, মেঘালয়ের উত্তোলিত কয়লা রফতানিতে আর কোনো বাধা নেই। মেঘালয়ে প্রায় ৬০ লাখ টন কয়লা উত্তোলিত অবস্থায় রয়েছে, যা দিয়ে বাংলাদেশের দুই বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, মেঘালয় পাহাড় থেকে কয়লা উত্তোলনের ওপর ভারতীয় আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

জানা যায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৬ মে থেকে বন্ধ হয়ে যায় সিলেটের সব শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি। আমদানি বন্ধ থাকায় শতকোটি টাকার লোকসান গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের।

সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের শুল্ক স্টেশনগুলোর মধ্যে তামাবিল, সুতারকান্দি, ভোলাগঞ্জ, বড়ছড়া, চারগাঁও ও বাগলি— এ ছয় স্টেশন দিয়ে সবচেয়ে বেশি কয়লা আমদানি হয়। প্রতি বছর এসব স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ২০ লাখ টন কয়লা আমদানি হয়। দেশের ইটভাটাগুলোর প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হয় এ কয়লা। আমদানি বন্ধের কারণে কয়লা সংকটে বিপাকে পড়ে ইটভাটাগুলো।

ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশ থেকে কয়লা আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। তবে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা (ক্যালরিক ভ্যালু) কম হওয়ায় এটি ব্যবহার করে লোকসান গুনতে হয় ইটভাটা মালিকদের।

সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি ফালাহউদ্দিন আলী আহমদ বলেন, মেঘালয়ের কয়লার ক্যালরিক ভ্যালু অনেক বেশি। এগুলো উচ্চ তাপসম্পন্ন। ফলে ইটভাটাগুলোয় মেঘালয়ের কয়লার চাহিদা সর্বাধিক।

জানা যায়, ভারতীয় ট্রাইব্যুনাল গত এপ্রিলে দুই মাসের মধ্যে পুরনো এলসিকৃত কয়লা রফতানির নির্দেশ দেন। ফলে সর্বশেষ গত ৩০ জুন পর্যন্ত কয়লা আমদানি করা হয়। এর পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় আমদানি কার্যক্রম। স্থবির হয়ে পড়ে সিলেটের শুল্ক স্টেশনগুলো।

সিলেটের কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত কয়লার দাম পড়বে প্রতি টন ৮৫ ডলার। দেশে যা ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন আমদানিকারকরা।

আমদানিকারকরা জানান, গত এক বছর স্বল্প পরিমাণে কয়লা আমদানি সম্ভব হলেও এখন নিরবচ্ছিন্নভাবে চাহিদামাফিক আমদানি সম্ভব হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.