তপন কুমার দাস, বড়লেখা | ০৪ আগস্ট, ২০১৫
আভ্যন্তরীন কোন্দল মিটিয়ে সাংগঠনিক কর্যক্রম চাঙ্গা করতে গত জুন মাসে গঠন করা হয়েছিলো মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি। তবে কমিটি গঠন উল্টো হিতে বপরীত হয়ে দেখা দিয়ে বড়লেখা বিএনপির জন্য। কমিটিকে কেন্দ্র করে আরো তীব্র হয়ে উঠেছে অর্ন্তকোন্দল।
কমিটি গঠনের এক মাস পেরোতেই পদত্যাগ করেছেন নবগঠিত দুই কমিটির ৭০ সদস্যের মধ্যে ৫৯ জনই। একসাথে এতো বিপুল সংখ্যক নেতার পদত্যাগে বড়লেখা বিএনপির গৃহদাহ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।
চলতি বছরের জুন মাসে জেলা বিএনপি সভাপতি এম নাসের রহমান ও সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানীর যৌথ স্বাক্ষরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৩৫ সদস্য করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা এবং কাউন্সিল ছাড়া কমিটি ঘোষণা করায় তারা পদত্যাগ করেছেন বলে লিখিত পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটি দ্রুত বাতিল করে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কামিটি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
দলীয় ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, বড়লেখা বিএনপিতে দু’টি ধারায় আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত ছিল না। হাতাশাগ্রস্থ তৃণমূলের এ সকল নেতা কর্মীরা জেলা কমিটিসহ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে বিরাজমান অবস্থা নিরসনে দাবি জনিয়ে আসছিলেন।
এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২২ জুন বড়লেখা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটির ঘোষণা দেন জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
দীর্ঘদিন থেকে বড়লেখায় দু’ভাগে বিভক্ত বিএনপির চলে আসা দ্বন্ধ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত এ কমিটি পুনরায় দ্বন্ধের সৃষ্টি করে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীর মতামতের ভিত্তিতে কমিটি ঘোষিত না হওয়ায় উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটির ৭০ জনের মধ্যে ৫৯ জন সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। নেতাকর্মীদের মতামতের মূল্যায়ন না দেওয়া ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করায় বিএনপিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্ব বিরোধ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে দলীয় কর্মকান্ডে দ্বিধাবিভক্তি ও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
পদত্যাগের বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান (খছরু) বলেন, পদত্যাগ পত্রে যাদের নাম আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা কেউই স্বাক্ষর করেননি। এটা জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে করা হয়েছে।
এদিকে নবগঠিত উপজেলা বিএনপির কমিটি থেকে পদত্যাগকারী সহ- সভাপতি তুতিউর রহমান তোতাব আলী, যুব বিষয়ক সম্পাদক ও পৌর মেয়র প্রভাষক ফখরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড শৈলন চন্দ্র রায়, পৌর কমিটির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন গিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনাসহ পদত্যাগী কয়েকজন নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভের সাথে জানান, যারা তৃণমূলে দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেন তাদেরকে উপেক্ষা করে কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা কিংবা কাউন্সিল ছাড়া কি ভাবে কমিটি গঠন করা হয় তা বোধগম্য নয়। এ কমিটি আমরা প্রত্যাখ্যান করে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছি। শীঘ্রই নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে আশা করছি।
এ ভাবে কমিটি গঠন করা ও বহিরাগত এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে আগত কয়েকজন কমিটির উচ্চ পর্যায়ে স্থান পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছেউল্লেখ করে তারা আরো বলেন, সংগঠন কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। আমার জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতি করি। কেউ যদি সংগঠনকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে এটা মেনে নেওয়া হবে না।
জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বড়লেখা বিএনপির সাবেক দু’কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পাওয়া দারাদ আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনান, নতুন কমিটি ঘোষণা করার পূর্বে নিয়ম রয়েছে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করার। কিন্তু কোন রূপ আলাপ আলোচনা ও পূর্ব কমিটি বিলুপ্ত ছাড়াই ঘরে বসে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। যা ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেক আঘাত দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান আওয়ামীলীগের সক্রিয় সদস্য জাহিদুল ইসলাম মামুন কিভাবে বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন এ বিষয়টি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে আমার প্রশ্ন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীকেও কমিটি গঠনের সময় জেলা নেতৃবৃন্দ জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, গঠনতন্ত্রে এরকম কোন কমিটির বিধান নেই। গঠনতন্ত্র অনুসারে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হতে হবে। এমনকি জেলা কমিটি ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি দিয়েছে তা তারা করতে পারে না। ৩৫ জনের কমিটির যদি ৩০ জন পদত্যাগ করে তাহলে আর এটাকে কমিটি বলে সম্বোধন করা যায় না।
এ বিষয়ে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানী সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পদত্যাগ পত্র প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।