মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট | ০৫ মার্চ, ২০১৯
মান্ধাতার আমলে ব্যবসায়ীদের টাকায় নির্মিত টিনশেড ভবনে চলছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এলসি স্টেশন দিয়ে আমদানি করা চুনাপাথরের দাপ্তরিক কার্যক্রম। সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম ভাণ্ডার হওয়ার অপার সম্ভাবনা থাকলেও আধুনিকতার কোন ছোঁয়া নেই এখানে।
গাছের নিচে ধুলাবালিময় পরিবেশে আমদানিকারকরা দাড়িয়ে থেকে তাদের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে যান। এলসি স্টেশনে লোকবল এবং আবাসন সংকট বিদ্যমান থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে জানা যায়, এক সময়কার ছাতকের অধীনে থাকা ভোলাগঞ্জ এলসি স্টেশন দিয়ে চুনাপাথর আমদানি প্রক্রিয়া চলতো। ২০০৫ সালে ছাতকের অধীন থেকে নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে কাস্টমস বিভাগ। ওপারে ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক থাকায় এবং দুর্গম হওয়াতে বাংলাদেশের সরকারের রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনাময় এই এলসি স্টেশনটি সরকারের রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলসি স্টেশনটি পরিদর্শনকালে কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়। এই এলসি স্টেশনটি খোলা থাকলে মাসে নূন্যতম ২ কোটি টাকা রাজস্ব আসে আমদানিকৃত চুনাপাথর থেকে।
লোকবল সংকটও এখানে চরম আকার ধারণ করেছে। ইন্সপেক্টর পদে ১ জন, সাব-ইন্সপেক্টর পদে ১ জন, কনস্টেবল পদে ৩ জনসহ একাধিক পদে লোকবল নেই। তাছাড়া নিজস্ব অফিসও নেই। যা আছে তা ২০১৬ সালে আমদানিকারকদের তৈরি করে দেয়া। বিদ্যুৎ নেই, সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে তাও আমদানিকারকরা করে দিয়েছেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ইতিবাচক প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় এমন দৈন্যতা বিরাজ করছে বলে মনে করেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীসহ এলাকার সচেতন জনগণ। ইমিগ্রেশন না থাকায় এখানকার আমদানিকারক ব্যবসায়ীসহ ভারত ভ্রমণ ইচ্ছুক এ অঞ্চলের জনগণকে দূরবর্তী গোয়াইনঘাটের তামাবিল স্থলবন্দর হয়ে ভারতের মেঘালয়ে যেতে হয়।
বাংলাদেশ সরকারের সাথে ভারতীয় সরকারের চুক্তি থাকলেও ভারত অভ্যন্তরের সড়ক যোগাযোগসহ এই এলসি স্টেশনের বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া ব্যহত হওয়ার মূল কারণ বলে জানান আমদানিকারকরা।
সিলেটসহ দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর ও এলসি স্টেশনগুলোর মতো রাজস্ব আদায়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ভোলাগঞ্জ এলসি স্টেশন আধুনিকায়নে সরকার ইতিবাচক এবং বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ করে এখানকার সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে এমনটা প্রত্যাশা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের।
ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারক মো. শাহাব উদ্দিন জানান, সিলেটের অন্যান্য স্থলবন্দর এবং এলসি স্টেশনের মতো ব্যাপক রাজস্ব আদায়ের একটি ক্ষেত্র ভোলাগঞ্জ এলসি স্টেশন। ভারত অভ্যন্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এখানকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে দিলে বাংলাদেশ সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
এ ব্যাপারে কথা হলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জি জানান, ভোলাগঞ্জ এলসি স্টেশন আধুনিকায়ন ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা আছে। সরকারও এখানকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক। এখানকার সমস্যাসহ উন্নয়নের অচিরেই গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। তখন বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে কোম্পানীগঞ্জ আরও এগিয়ে যাবে।