Sylhet Today 24 PRINT

কবর থেকে লাশ উধাও

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি |  ০৫ আগস্ট, ২০১৫

জীবিত অবস্থায় নিখোঁজ ছিলেন দুই দিন। তারপর পাওয়া যায় তার লাশ। ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফনও করা হয়। ২ মাস ১৩ দিন পর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর খুঁড়ে দেখা গেল লাশও নিখোঁজ। রয়েছে কাফনের কাপড়, নীল রংয়ের পলিথিন ও প্লাস্টিকের সুতলি।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার গ্রামের নিহত বৃদ্ধ দিনমজুর আব্দুল মনাফের কবর খোঁড়ার পর দেখা যায় সেখানে লাশ নেই। অভিযোগ উঠেছে, কবর থেকে লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মানববন্ধন ও মিছিল করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহেল মাহমুদ ও সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমানের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে নিহত মনাফের কবর খোঁড়া হয়।কবর খুঁড়ে লাশের কোনও অস্তত্বি না পাওয়ায় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নিহত আব্দুল মনাফের ভাই আব্দুল হাসিম।

এসময় সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা.আহমেদ সিরাজুম মুনির (রাহেল), বিশ্বনাথ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র সরকারসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহেল মাহমুদ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য কবর খোঁড়া হয়। কিন্তু কবরে লাশ পাওয়া যায়নি।’ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান তিনি।

সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন,‘আদালতের নির্দেশে লাশটি পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমরা আজ (মঙ্গলবার) কবর খুঁড়ি।’

এলাকাবাসী ও নিহতরে স্বজনদের অভিযোগ, বৃদ্ধ আব্দুল মনাফকে যারা হত্যা করেছে তারা দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সংবাদ পেয়ে লাশ কবর থেকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে। এ ঘটনায় দু’জন গ্রেফতার হলেও পরে তারা জামিন পেয়েছে।

প্রসঙ্গত,হরিপুর গ্রামের মৃত জবান আলীর পুত্র আব্দুল মনাফ (৫৫) গত ১৬ মে বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এরপর ১৮ মে সন্ধ্যায় তার বাড়ির গোয়াল ঘরে দুর্গন্ধ পেয়ে মনাফের স্ত্রী সেখানে গিয়ে স্বামীর লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন আব্দুল মনাফকে হত্যার অভিযোগে গ্রামবাসী হরিপুর গ্রামের অভিযুক্ত উস্তার আলী ও তার ছেলে মিন্টু মিয়াকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।

এরপর আব্দুল মনাফকে হত্যার অভিযোগে তার ভাই আব্দুল হাশিম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত ২৫ মে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩ এ একটি দরখাস্ত মামলা দায়ের করেন (বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নং- ১৪১/২০১৫)। ওই মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- হরিপুর গ্রামের উস্তার আলীর পুত্র টিটু মিয়া (২৫), তার পিতা উস্তার আলী (৫৫), ভাই মিন্টু মিয়া (২২), লুৎফুর (৩২) ও একই গ্রামের মৃত মজর আলীর পুত্র কবিরুল (৩৫)।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.