Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে টিলার নিচে ১০ হাজার পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৫ আগস্ট, ২০১৫

টিলার নিচেই নির্মান করা হয়েছে বসতভিটা। বৃষ্টিতে টিলা ধ্বসে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ছবিটি বালুচর থেকে তোলা

সিলেটে টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। বর্ষা মৌসুমে টিলা ধ্বসে প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন তারা। এরআগে একাধিকবার সিলেটে টিলা ধ্বসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে নেই কোনো উদ্যােগ।

জানা যায়, সিলেটে গত কয়েক বছরে টিলা ধ্বসে অন্তত ৩০ জন লোক মারা গেছেন। নিহতদের প্রত্যেকেই টিলার পাদদেে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী।

সূত্রমতে, সিলেট নগরী ও এর আশপাশ এলাকায় প্রায় ২৫০টি পাহাড়-টিলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে শ’খানেক পাহাড়-টিলা। এরমধ্যে শহরতলীর বালুচর এলাকায়ই ৫১টি পাহাড়-টিলা রয়েছে। ওই এলাকায় ২ হাজার পরিবার বাস করছে। এছাড়া অন্যান্য পাহাড়-টিলার পাদদেশে আধাপাকা বাড়ি, কাচা বাড়ি এমনকি কোথায় দালান তৈরী করে আরও ৭-৮ হাজার পরিবার বসবাস করছে।

মূলত পাহাড়-টিলাগুলো প্রত্যেক এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় তারাই বাড়ি নির্মাণ করে ভূমিহীন ও হতদরিদ্রদর ভাড়া দিয়ে থাকেন। ভাড়া কম হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি সত্ত্বেও এসব বাড়িতে বসবাস করে আসছেন নিম্নবিত্ত লোকজন। বিশেষ করে সিলেটের বাহিরের জেলা থেকে আগত দিনমজুর লোকজনের সংখ্যাই বেশি। পাহাড় বা টিলার নিচে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব।

সরেজমিন শহরতলীর বালুচর, খাদিম ও নগরীর আখালিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এক একটি টিলার পাদদেশে ২০ থেকে ১শ পরিবার বসবাস করছে। আখালিয়ার জগোটিলা হিসেবে পরিচিত টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে প্রায় ৫০টি পরিবার।

একইভাবে বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড়, হাওলাদারপাড়া, দলদলি চা বাগান, বহর, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর এলাকার বিভিন্ন পাড়ার-টিলার পাশে ঝুকিপূর্ণ বসবাস করে আসছেন লোকজন।

তবে সিলেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কতটি পরিবার বসবাস করছে তার পরিসংখ্যান নেই জেলা প্রশাসনের কাছে।

সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই আল হাদী জানান, তারা জরিপ করে দেখেছেন টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার লোক ঝুঁকিতে বসবাস করছে।

ঝুকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাতে দীর্ঘদিনেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছরই ঘটছে হতাহতের ঘটনা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে কম হলে ৩০ জন লোক মারা গেছে।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ২০১৪ সালে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের টিলার পাশের একটি দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিনজন, জৈন্তাপুরে পাহাড় ধসে ২ শিশু, ২০০২ সালে শাহী ঈদগাহ এলাকায় ৪ জন, গোলাপগঞ্জে ২০০৫ সালে টিলাধ্বসে একই পরিবারের ৩ জন, ২০০৯ সালে জেরিন চা বাগানে পাহাড় চাপায় ৩ জন, একই বছরের ১০ অক্টোবর গোলাপগঞ্জের কানিশাইলে মাটি চাপায় এক শ্রমিক মারা যায়। সর্বশেষ গত ১০ জুন নগরীর হাওলাদার পাড়ায় টিলা ধসে তিনজন আহত হন।

এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.