ডেস্ক রিপোর্ট | ০৬ আগস্ট, ২০১৫
১৫ আগস্টের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে ১৬ আগস্ট কাফনের কাপড় পরে মহাসড়কে নামবেন সিলেটের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জেলা উপজেলা পর্যায়ে অর্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জেলা অটোরিকসা (সিএনজি) শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন।
তারা জানান, সিলেটের আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও জেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের অনুরোধে সিলেটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে আপাতত কোন কঠোর আন্দোলন করবেন না তারা।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া উল্লেখ করেন, সিলেটে প্রায় ৭ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। সিলেটের ৪/৫টি উপজেলার ১০/১২ লাখ যাত্রী সিএনজি অটোরিকশাযোগে যাতায়াত করেন। মহাসড়ক ব্যবহার ছাড়া এসব উপজেলার চালকদের কোন বিকল্প পথ নেই। অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশনও মহাসড়কের পাশে। বিআরটিএ অফিসে আসতে হলে মহাসড়ক দিয়ে আসতে হয়। সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে সারা দেশের মতো সিলেটের চালকরাও পড়েছেন বিপাকে।
সংবাদ সম্মেলনে চালকরা প্রশ্ন তুলেন, বিকল্প রাস্তা না করে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে তারা হতবাক। তারা যুক্তিক দাবি মেনে নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, মহাসড়কে অটোরিকসা চলাচলের বিষয়টি সুরাহা না হলে হাজার হাজার চালকদের পরিবারের সদস্যরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হবে।চালকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবহণ শ্রমিকদের বুকে টেনে নিলেও একটি দুষ্টচক্র যানবাহনের মালিক শ্রমিকদের সরকারের মুখোমুখি দার করিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তিন পক্ষের মধ্যে বৈঠকে শোক দিবসকে সামনে রেখে আন্দোলন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়। সে কারণে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। কিন্তু ১৫ আগস্টের পর শ্রমিকরা মাঠে নামবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ মিয়া, কার্যকরি সভাপতি সুন্দর আলী খান, সহ সভাপতি মানিক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু মিয়া, অর্থ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন, দফতর সম্পাদক ইকবাল আহমদ, প্রচার সম্পাদক খছরু মিয়া, কল্যাণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ, সদস্য মাসুক মিয়া, মামুনুর রশীদ, কয়ছর আহমদ, ছুরুক মিয়া, আনছার মিয়া, আজব মিয়া, আনোয়ার হোসেন, জাকারিয়া আহমদ টিপু, ইসমাইল আলী প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, মহাসড়কে অটোরিকসা চলাচল বন্ধে নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ আগস্ট সিলেট জেলা অটোরিকসা (সিএনজি) শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট জেলায় অনির্দিষ্টকালের অটোরিকসা ধর্মঘট ও মহাসড়কে অবস্থানের আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করে।
তবে ওই দিন বিকেলে জেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা দুই দিনের জন্য আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন।