নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ মার্চ, ২০১৯
সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আবু সিনা ছাত্রাবাসা সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুৃল মুহিত। এই স্থাপনার বিভাগীয় যাদুঘর স্থাপন স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে এই স্থানে নির্মানাধীন হাসপাতাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পক্ষেও মত দেন মুহিত।
শতবর্ষের প্রাচীন আবু সিনহা ছাত্রাবাস রক্ষার দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রোববার সকালে ওই ভবন পরিদর্শনে যান সাবেক এই অর্থমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আপাতত হাসপাতালের কাজ বন্ধ রাখা ও হাসপাতালের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণের জন্য সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদকে নির্দেশনা দেন মুহিত।
নতুন জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণ ও আবু ছাত্রাবাসের জায়গায় যাদুঘর নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত সুপারিশ
প্রদান করা হবে বলেও জানান মুহিত।
নগরীর চৌহাট্টা এলাকার ঐতিহাসিক ও ঐতিহবাহী স্থাপনা আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙ্গে সম্প্রতি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়। পুরনো এই ভবন ভাঙ্গার খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেটের নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ভবনটি রক্ষায় আন্দোলনে নামে বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন।
আন্দোলনকারীদের অনুরোধে রোববার সকালে আবু সিনা ছাত্রাবাস এলাকা পরিদর্শনে আসেন মুহিত। তাঁর আমলেই এই হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়।
পরিদর্শনের পর আন্দোলনকালিদের সাথে মতবিনিময় করেন মুহিত। এসময় আন্দোলনকারিদের পক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম আবু সিনা ছাত্রাবাস সংরক্ষশণ করে এই স্থানে জাদুঘর করার প্রস্তাব দেন। এতে সম্মতি জানিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, সিলেটে জাদুঘর করার প্রতিশ্রুতি ছিলো আমার নির্বাচনী ইশতিহারে। এটা সম্ভব হয়নি, এবার আবুসিনা ছাত্রাবাসটি কাজে লাগিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করা সম্ভব হবে৷ সরকারও এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বিশিষ্টজনেরা মিউজিয়ামটি আবুল মাল আবদুল মুহিতের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন।
পরিদর্শনের সময় জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর সদ্য সাবেক সভাপতি সি এম তোফায়েল সামি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, গবেষক এ কে শেরাম, ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দিন যাদুঘর-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) এর সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, সেইভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রোমেন্ট সিলেট প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হাই আল হাদী, কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটের প্রধান নির্বাহী ফরিদা নাসরিন, লিটল ম্যাগাজিন মেঠোসুর সম্পাদক বিমান তালুকদার, চারণ সাংস্কৃতিক সংঘের রুবাইয়াৎ আহমেদ, শাহী ঈদগাহ-এর মোতয়াওয়াল্লী আলহাজ জহির বক্ত, উদীচী সিলেট-এর সভাপতি এনায়েত হাসান মানিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সিলেট ব্যুরো প্রধান মকসুদ আহমদ মকসুদ উপস্থিত ছিলেন।