নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ মার্চ, ২০১৯
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়া এলাকায় জহির-তাহির মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠেছে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জের ধরে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে। শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার জহির-তাহির মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে আব্দুল বাছিত নামের একজনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ নিয়োগে আপত্তি জানায় শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অরবিন্দ ভট্টাচার্যকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
এ দাবিতে শনিবার সকালে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় নগরীর ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য সয়েফ খান এবং বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক শমসের সিরাজ শিক্ষার্থীদের হুমকিধামকি দেন। তারা ক্লাসে ফিরতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাদের নির্দেশে কর্ণপাত না করায় তারা শিক্ষার্থীদের মারধর ও ধাক্কা দিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করান। এতে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্র ও সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী আহত হয়।
পরে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অরবিন্দ ভট্টাচার্যের কক্ষে গিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজম খান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ‘একজন শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা থেকে এ আন্দোলন হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সাথে এ ধরনের আচরণ কখনোই কাম্য নয়।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসাদ খান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বদলির দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ধাক্কাধাক্কিতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাও আহবান করা হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ স্বচ্ছভাবেই হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। নিয়োগ কমিটির ফলাফলের ভিত্তিতেই একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়।’
‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কেউ ইন্ধন দিচ্ছে কিনা’ তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সহাকারী প্রধান শিক্ষক অরবিন্দ ভট্টাচার্য বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে আসছি। শিক্ষার্থীরা আমার নিজের ছেলে-মেয়ের মতোই। অথচ আজ দীর্ঘ শিক্ষকতার জীবনে লাঞ্ছিত হতে হলো!’
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক সয়েফ খান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ঝামেলা হচ্ছে শুনে গিয়েছিলাম। কারো সাথে খারাপ আচরণ করিনি। শিক্ষার্থী নিজেই পড়ে আহত হয়েছে।’
বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক শমসের সিরাজ বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি অবগত ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা হাতাহাতি করছে মনে করে তাদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন তিনি। সে সময় একজন ছাত্র বারান্দা থেকে পড়ে আহত হয় বলে তিনি শুনেছেন।
শিক্ষককে লাঞ্ছনা করেননি বলেও জানান তিনি।