Sylhet Today 24 PRINT

সমস্যায় জর্জরিত বিয়ানীবাজারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীগুলো

শাবুল আহমেদ, বিয়ানীবাজার |  ০৯ আগস্ট, ২০১৫

লাইব্রেরী কক্ষ, বই, শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীগুলো। ফলে শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান অর্জনে মারাত্মক বিপত্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীগুলো কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে বেশীরভাগই হ-য-ব-র-ল অবস্থা। শিশুকিশোরদের উপযোগী বইসহ নেই পর্যাপ্ত পরিমানের বই, যে কয়েকটি বই রয়েছে তা প্রায় কাটা-ছেঁড়া এবং নিম্নমানের। অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেশনে লাইব্রেরীর জন্য আলাদা ফি নেয়া হলেও বইয়ের পরিধি বাড়েনা। কেবল পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভূক্ত কিছু সংখ্যক বই ক্রয় করা হয়। 

সিলেট শিক্ষাবোর্ড সূত্রে এমপিওভূক্ত প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে ১২শ’ এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার বই থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ একাধিক বিদ্যালয়ে বইয়ের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। যা প্রতিবছরের সুষ্ঠু প্রতিবেদন রিপোর্টে এসব বিদ্যালয়ের সরকারি অনুদান বাতিল হওয়ার যোগ্য। পক্ষান্তরে উৎকোচ প্রদানের মধ্যে দিয়ে পরিদর্শক কর্তৃক খুব সহজেই বৈধতা পায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো; যার ফলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে দেখা দেয় প্রতিবন্ধকতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লাইব্রেরীর জন্য আলাদা কোনো কক্ষ নেই। বেশীরভাগ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কক্ষে একটি বা দুটি সকেইছে অযত্ন-অবহেলায় গাদাগাদি করে লাইব্রেরীর বইগুলো রাখা হয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত বইগুলো খোঁজে বের করতে লাইব্রেরীর দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষককেও হিমশীম খেতে হয়।

বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে পিএইচজি হাই স্কুলের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক আলী আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীর জ্ঞান অন্বেষণের অন্যতম সহায়ক লাইব্রেরীর জন্য আলাদা শিক্ষক, আলাদা কক্ষ সৃষ্টিকরণের মধ্যে দিয়ে শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকের সংখ্যা বৃদ্ধি করে উপজেলা শিক্ষা কমিটির পরিসর বড় করা উচিত।

তিনি জানান, বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই; তথ্য প্রযুক্তির প্রসার বৃদ্ধির ফলে বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীরা বেশী অমনোযোগী হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের পরিধি বৃদ্ধি তথা এর অপব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মাত্রা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, মূলত ছাত্রছাত্রীরা লাইব্রেরীমুখী নয়; বেশির ভাগই গাইড নির্ভর। তাছাড়া লাইব্রেরীর জন্য আলাদা কোন শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা সাধারণ জ্ঞান অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে।

মোল্লাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু তাহের তুহিন বলেন, ‘কেবল শিক্ষার্থীদের দোষ নয়, প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরীর দিকে মনোযোগী করে তোলার চেয়ে কতিপয় কিছু শিক্ষক নিরোৎসাহিত করেন।’ তিনি শিক্ষার্থীদেরকে বই পড়ায় উৎসাহীত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ব্শ্বি সাহিত্যকেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচীকে বাস্তবায়ন করার আহবান জানান।

লাইব্রেরীগুলোতে বই সংকট নেই উল্লেখ করে বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, লাইব্রেরীর জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক এ দায়িত্ব পালন করছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.