Sylhet Today 24 PRINT

নবীগঞ্জে ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, মামলা করে বিপাকে পরিবার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১৭ এপ্রিল, ২০১৯

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের ২০ দিনেও কোন আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামি পক্ষের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবার। তবে পুলিশ বলছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে, ভয়ে ও আতঙ্কে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ধর্ষণের শিকার শিশুটি। বার বার পরিবারের লোকজনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে স্কুলে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যার্থ হচ্ছেন।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার মেয়ে (৮) উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে পড়ে। তাঁর বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। তিনি কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তার পিতা বাড়িতে না থাকলে প্রায়সময়ই ওই ছাত্রী নিকটবর্তী হাওরে চড়ানো গরু-বাছুর বাড়িতে নিয়ে আসে।

গত ২০ মার্চ বিকেলে পিতা বাড়িতে না থাকায় বাড়ির পশ্চিমে মাঝের কান্দি হাওরে ওই ছাত্রী গরু আনতে যায়। সেখানে তাকে একা পেয়ে একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে জাকারিয়া তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় একই গ্রামের আব্দুল জলিল নামক একব্যক্তি দূর থেকে ঘটনা দেখে এগিয়ে এলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। সাথে সাথে আব্দুল জলিল ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ২৬ মার্চ ধর্ষিতা শিশুর মা বাদি হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের ২০ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে ধর্ষণের বিচার দাবিতে তার সহপাঠী কয়েকশ’ শিশু রাস্তায় নেমেছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে তারা আসামির দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার মা বলেন, ‘পৃথিবীকে চেনার আগেই আমার মেয়ের উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে, সে তান্ডব কাটিয়ে আমার মেয়ে কোন দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে কি-না জানি না। তবে এখন আমার মেয়ে স্কুলে আসা তো দূরের কথা ঘর থেকে বের হতেও চায় না। লোকজন দেখলেই সে ঘরের কোণে লোকিয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে ঘর থেকেই বের হতে চায় না। সর্বদা সে ভয়ে থাকে।’

ধর্ষিতার মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আসামী পক্ষ মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমাকেসহ আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে তোলে নেবে বলেও প্রচার করছে। আমার মেয়েকে যে লম্পট এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছে আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

মেয়েটি যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল দাশ মল্লিক বলেন, ‘আমাদের আশপাশে অনেক অপকর্মই ঘটে কিন্তু এ ছাত্রী সাথে ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। আমরা ঘৃণ্য এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোহর রায় বলেন, ‘২য় শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ধর্ষণের স্বীকার হয়ে আজ বিদ্যালয় ছাড়া। একাধিক বার তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার জন্য পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে সালমাকে বিদ্যালয়মূখী করা যায়নি। আমরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রীরা ধর্ষক জাকারিয়ার অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।’

সহকারি শিক্ষক কয়েস মিয়া বলেন, ‘আমরা শিশু ধর্ষিতার চাচার মাধ্যমে প্রথমে বিষয়টি জানতে পারি। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট দেখে বিষয়টির সত্যতা পাই।’

তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা লম্পট জাকারিয়াকে আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দিবেন যাতে পরবর্তীতে আর কোন লম্পট এমন নেক্কারজনক কাজে জড়াতে সাহস না পায়।’

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) গোলাম দস্তগীর বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করছেন গোপলারবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর কাউসার আলম। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামী গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.