Sylhet Today 24 PRINT

রাজন হত্যা : ঘাতক কামরুল কি আরেক নুর হোসেন হবে?

কামরুল ইসলামকে পলাতক দেখিয়েই রাজন হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১০ আগস্ট, ২০১৫

গত বছরের ২৭ এপ্রিল নূর হোসেনের পরিকল্পনায় নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে খুন করা হয়। যা দেশব্যাপী তীব্র আলোচিত হয়। সাত খুনের পর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ব্যর্থতার ভারত পালিয়ে যায় নুর হোসেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই নূর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও ১৫ মাসেও ফেরানো যায়নি তাকে।

নুর হোসেনকে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া এবং রেড অ্যালার্ট জারি করাও হয়েছিল। তবু ফেরানো যায়নি নুর হোসেনকে।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের আসামী নুর হােসেনের মতো সিলেটে শিশু রাজন হত্যা দায়ে প্রধান অভিযুক্ত কামরুলকেও কি ফেরানো যাবে না- এই প্রশ্ন এখন দেখা দিয়েছে।

কামরুলকে পলাতক দেখিয়ে রাজন হত্যার মামলার অভিযোগপত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এমন সিদ্ধান্তের পরই প্রশ্ন উঠেছে- কামরুলকে কি ফেরানো যাচ্ছে না? আইন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন কামরুলকে ফেরানো সহজ নয়।

কামরুলকে দেশে ফেরাতে সরকারের গাফিলতি রয়েছে উল্লেখ করে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ''সৌদি আরবের সাথে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই। এছাড়া কামরুলকে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়ে মামলার যে এজাহারটি সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে, সে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ‘চোর সন্দেহে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়’। এখন চোর পিটিয়ে মেরেছে বলে সৌদি আরব কাউকে ফেরত দেবে কী না সেটাও ভাবার বিষয়। এজাহারের এই দূর্বলতার কারণেও কামরুলকে ফেরত আনা কষ্টকর হবে।''

যদিও রাজন হত্যার পর তার বাড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ঈদের পরপরই কামরলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগামী সপ্তাহেই চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। এতে সৌদি আবরে আটক কামরুল ইসলামকে পলাতক এবং গ্রেফতার হওয়া অপর ১২ আসামিকে অভিযুক্ত দেখানো হচ্ছে। পলাতক থাকলেও অভিযোগপত্রে কামরুলকে আসামী করা হবে বলে জানিয়েছে এই সূত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, শিশু রাজন হত্যা মামলায় এ যাবত গ্রেফতার হওয়া ১২ আসামি ও সৌদিতে থাকা কামরুল ইসলামকে আসামী করে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সৌদি আরবে আটক কামরুলকে ছাড়াই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। তবে অভিযোগপত্রে কামরুলকে আসামি দেখানো হবে।

রাজন হত্যার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে সৌদি আরবে আটক হয়। কামরুলকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে সত্যতা পেয়ে তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।

আলোচিত এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলো- মুহিত আলম, তার স্ত্রী লিপি বেগম, ইসমাইল হোসেন আবলুছ, ফিরোজ মিয়া, আসমত উল্লাহ, চৌকিদার ময়না মিয়া, আলী হায়দার, নুর মিয়া, দুলাল আহমদ, আয়াজ আলী, তাজ উদ্দিন বাদল ও রুহুল আমিন।

এদের মধ্যে ৮ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- মুহিত আলম, তার ভাই আলী হায়দার, ভিডিওচিত্র ধারণকারী নুর মিয়া, আয়াজ আলী, দুলাল আহমদ, চৌকিদার ময়না মিয়া, ফিরোজ আলী ও আসমত উল্লাহ।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন- মহানগরীর জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সকালে রাজনকে পিঠিয়ে হত্যার পর বেলা পৌনে ১টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শিশু রাজনের মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়। এদিন জনতা ধাওয়া করে মুহিত আলমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। রাজনকে হত্যার নির্মম নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ হওয়ার পর সিলেটসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.