সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ এপ্রিল, ২০১৯
সিলেট শহরতলীর মেজরটিলার ইসলামপুরে সুহেল মিয়া নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সুহেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার। সুহেলের মৃত্যুকে রহস্যজনক মনে করছেন তার পরিবার। তারা মনে করছেন পরিকল্পিত ভাবে সুহেলকে হত্যার করা হয়েছে। এজন্য মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান সুহেলের পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে সুহেলের নিজ ঘরের তীরের সাথে নিজের শার্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে শুরু থেকে আত্মহত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার।
এদিকে সুহেলকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল লতিফ, মা রিমা বেগম ও স্ত্রী তাসলিমাসহ পরিবারের সদস্যরা। ছেলেকে হত্যা করা হতে পারে এমন ধারণার বিষয়টি তার বাবা লতিফ পুলিশকে শুরুতেই অবগতও করেন। কিন্তু পুলিশ প্রাথমিক ধারণা থেকে আত্মহত্যার ঘটনায় ইউডি মামলা নেয় বলে জানান তার বাবা। এখন অপেক্ষা ময়না তদন্ত প্রতিবেদনের। প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শাহপরান থানার এসআই এনায়েত জানিয়েছেন।
জানা গেছে, দক্ষিণ ইসলামপুর মুসলিম নগরের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে সুহেল মিয়া ইসলামপুর টেক্সটাইল মিলস এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। দুই কন্যা সন্তানের জনক পেশায় মাছ বাজারের শ্রমিক ছিলেন সুহেল। ১১ এপ্রিল বিকালে তার নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন বলে জানতে পারেন তার পরিবার। খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের তীরের সাথে নিজের শার্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো লাশ উদ্ধার করে। ওই সময় লাশের পা মাটি থেকে সামান্য উপড়ে ছিল এবং পাশে খাট ও চেয়ার রাখা ছিল। এসব বিষয় দেখে শুরু থেকে আত্মহত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার।
সুহেলের পিতা আব্দুল লতিফ জানান, তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। তার ছেলে ইসলামপুর বাজারে মাছ কাটতো। স্থানীয় এক যুবকের সাথে তার ভাবছিল। ঘটনার পর তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মহত্যার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, সুহেলের ঘরের সাথে আরও ঘর রয়েছে। ঘটনার সময় কেউ কি টের পেলনা। তার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ওইদিন তার স্ত্রী তাসলিমা পিতার বাড়ি থেকে ফিরে বাসার দরজা বন্ধ দেখেন। এর আগে পার্শবর্তী বাসিন্দারা দরজা খোলার চেষ্টা করেন বলে তারা জানিয়েছেন। কিন্তু সুহেলের মা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। এসব কারণে আমরা ধারণা করছি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
শাহপরান থানার এসআই তদন্তকারী কর্মকর্তা এনায়েত জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছে সুহেল আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্তে হত্যা প্রমানিত হলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।