Sylhet Today 24 PRINT

পৌরসভা ও ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে দুর্ভোগে ১৭ হাজার শিক্ষার্থী

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি |  ২৮ এপ্রিল, ২০১৯

পৌরসভা ও ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে কারণে উপজেলার জেটি সড়কে অধিগ্রহণকৃত জায়গায় ময়লা ফেলার আধুনিক ড্যাম্পিং ইয়ার্ড বানাতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। যার ফলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী দুর্ভোগে পোহাচ্ছে অনেক বছর ধরে।

এই দুর্ভোগ সহ্য করতে করতে গত বছরের অক্টোবরে কঠোর আন্দোলনে যায় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভাগাড়ে বন্ধ করে দেয়া হয় ময়লা ফেলা। শহর জুরে তৈরী হয় ময়লার স্তুপ। শেষে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ৬ মাসের সময় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরানো হয়।

তবে ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এই ময়লার ভাগাড় সরাতে কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়নি কেউ। বিগত ৬ মাসে ময়লার ভাগাড় সরানো নিয়ে করা হয়নি কোনো আলোচনাও। তাই আবারো শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান ছাত্রনেতারা।

শ্রীমঙ্গল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সুজাত জানান, শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। যখন গতবছরের অক্টোবর মাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে ভাগাড়ে ময়লা ফেলা বন্ধ করায় তখন সবাই যে আশ্বাস দিয়েছিলো তা পুরণ তো দূরের কথা, কেউ এই ৬ মাসে সামান্যতম কোনো উদ্যোগ নেয়নি এই ময়লার ভাগাড় সরাতে। শিক্ষার্থীরা আর কত দিন এরকম দুর্গন্ধ সহ্য করে থাকবে। শিক্ষার্থীরা এখন কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিগ্রই শিক্ষার্থীরা আবারো রাস্তায় নামবে।

ময়লা ভাগার অপসারণ আন্দোলন কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী এতটাই ক্ষুব্ধ যে সহসাই কঠোর আন্দোলনে যেতে চাচ্ছেন তারা ৷ প্রয়োজনে আমরা (শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী) আবারও ময়লা ফেলতে বাধা দিবো ৷

এদিকে ময়লার ভাগাড় নিয়ে গতকাল ফেসবুক লাইভে এসে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন দেশের বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র ফেসবুক লাইভে নিয়ে আসা ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, এলাকার এমপি থেকে শুরু করে মেয়র পর্যন্ত কারোরই সন্তান এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা কওে না, তারা পড়ালেখা করে ঢাকায় কিংবা বিদেশে। তাই ময়লার ভাগাড়ের সামনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য কোন দরদ নেই। শিক্ষার্থীরাও তাই জনপ্রতিনিধিদের উপর ঘৃনা প্রকাশ করছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দেও কারণেই ময়লার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্যানেল মেয়র আব্দুল করিম বলেন, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় এলাকাবাসীকে নিয়ে ময়লা ফেলতে বাধা দিচ্ছে। আধুনিক ড্যাম্পিং ইয়ার্ড বানানোর জন্য উপজেলার জেটি সড়কে জায়গা অধিগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু তাদের কারণে কোনো কাজ হচ্ছে না। গত বছরের অক্টোবরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো জেটি রোডে এলাকাবাসী যে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ভিম (রাস্তার উপর তৈরীকৃত গেইট) তৈরী করে রেখেছিলো তা ভেঙ্গে ফেলতে, কিন্তু ভাঙ্গা হয়নি। এর কারণে ছোট ছোট গাড়ি ছাড়া সেখানে ময়লা ফেলার গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা আমাদের কাছে জায়গা অধিগ্রহনের জন্য আবেদন করেছিলো। আমরা জায়গা বরাদ্ধ করে দিয়েছি। এখন পৌরসভা উদ্যোগি হয়ে ড্যাম্পিং ইয়ার্ড তৈরী করবে। এটা তাদের নিজস্ব এখতিয়ার। তারা চাইলে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারি। গত ৬ মাসে পৌরসভা আমাদের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কোন যোগাযোগ করেনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.