Sylhet Today 24 PRINT

অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ে ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা পাড়ে ভাঙন

জুলহান চৌধুরী, ফেঞ্চুগঞ্জ  |  ২৯ এপ্রিল, ২০১৯

অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার মাইজগাও ইউনিয়েনর বারহাল গ্রামে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারার পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত চার দিন যাবত এ ভাঙন অব্যাহত আছে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অপরিকল্পিত ভাবে নদী থেকে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙছে কুশিয়ারা নদীর পাড়।

এর আগেও এই এলাকায় কয়েকবার নদীর পাড় ভাঙন দেখা দেয়। যার ফলে এতে খরস্রোতা কুশিয়ার নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গিয়েছিল শত শত কৃষিজমি। আবারো নদীর পাড় ভাঙন শুরু হওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন এই গ্রামের মানুষজন। এই ভাঙ্গন থেকে বাঁচতে এলাকার অনেকই পূর্ব পুরুষের ভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ মৎস্যজীবি। তাই তাদের সমস্যা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই বলে অভিযোগ এখানকার বাসিন্দাদের।

বারহাল গ্রামে বসবাস করছেন স্রাধিক মানুষ। এই গ্রামে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির। বর্ষাকাল আসার আগেই নদীর পাড়ের এই ভাঙনের ফলে প্রতিনিয়ত ভয় ও আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে বারহাল গ্রামের বাসিন্দাদের। এ ভাঙ্গনে বর্ষায় যে কোন সময় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন এলাকাবাসী।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বারহাল গ্রামে প্রবেশের ৫০ গজ আগেই নদীর পাড়ের বিশাল দুটি ভাঙ্গনের দেখা মিলে। কৃষি জমিগুলো ধসে পড়ছে নদীর বুকে। এই জায়গা থেকে সামান্য আগে গেলেই আরেকটি বড় ভাঙন চোখে পড়ে। এটাতে গত চার দিন থেকে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বারহাল কচুয়াবহর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে বিশাল চরের মধ্যেও ফাটল দেখা দিয়েছে।

এই এলাকার বাসিন্দা ঊষা বিশ্বাস বলেন, ‘সব শেষ অই গেছে। সবব শেষ হয়ে গেছে এখন ছবি তুলে কি হবে। আমরা এখন আর হিনান (স্নান) করতে পারি না। বালু তোইল্লা সব শেষ কইরা ফালাইছে।

বারহাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অবনি বিশ্বাস বলেন, পানির স্রোত আগে পশ্চিম পাড়ে ছিল। এখন ড্রেজিং মেশিনে বালি তোলায় এ পারেও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্রায় মাস খানেক যাবত এখান থেকে বালি তোলা হচ্ছে।  পশ্চিম পাড়ে বিশাল চর রেখে শুধু এপারে বালু তোলায় নদীর পাড় ভাঙছে।

কৃষক মোস্তাকিন আলী বলেন, এই ভাঙ্গনে কৃষি জমি নদীর বুকে চলে গেলে কেউর মাথাব্যথা নেই। কিছু দিন আগে ইওন বেটি আইলা দেখলা, কইলা ব্যবস্থা নিবা কিন্তু এখনো কোনো খবর নাই।

মাইজগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করিম চৌধুরী বলেন, কে বা কারা নদী থেকে
বালু তুলছে তা জনিনা। তবে তাকে ঐ এলাকার কেউ লিখিত ভাবে জানায়নি।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহিদুজ্জামান সরকার বলেন, কুশিয়ারা ও সুরমা পয়েন্টে আমাদের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। আর যে সমস্ত ভাঙ্গন রয়েছে সেগুলো ও রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। কি কারণে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। কোথায় বালু উঠছে তা সরজমিনে না দেখে বলতে পারছি না। আমি শিগ্রই ওই এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করবো।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়শা হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.