নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ আগস্ট, ২০১৫
পুলিশে চাকরী পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আব্দুল আলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন এক ছাত্রলীগ নেতা। ছেলের চাকরীর জন্য নিজের হালের গরু বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছিলেন আলীর বাবা।
কিন্তু পুলিশে চাকরী হয়নি আলীর। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষায়ও ডাক পাননি। চাকরী না হওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকে দেওয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত চেয়েছিলেন আলী। সেই টাকা ফেরত চাওয়ায়ই খুন হতে হলো আলীকে।
এমনটি অভিযোগ করেছেন খুন হওয়া আব্দুল আলীর চাচা মোহাম্মদ আলী।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে মদন মোহন কলেজ ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় আব্দুল আলী (১৯) কে। আলী ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। তিনি নিজেও ছাত্রলীগ কর্মী। আলী দক্ষিণ সুরমার সিলামের আখলিস মিয়ার ছেলে।
এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার দায়ে এখন পর্যন্ত দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক পূর্ণজিৎ দাস ও রুহুল কান্তি দে বাসু দু'জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
আটককৃতরা পুলিশের কাছে আলী হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে কতোয়ালি থানা পুলিশ।
বুধবার ওসমানী হাসপাতালে ভাতিজার লাশ দেখতে এসে নিহত আব্দুল আলীর চাচা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর পূর্বে আমার ভাই আখলিস তার ছেলেকে পুলিশের চাকরি দেয়ার নাম করে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন ছাত্রলীগের এক নেতা। টাকা দেয়ার তিন দিনের ভেতরে পুলিশ চাকুরির আশ্বাস দিয়েছিলেন ওই নেতা।
মোহাম্মদ আলী বলেন, এই আশ্বাস পেয়ে আমার ভাই ৪৫ হাজার টাকায় নিজের গরু বিক্রি করেন এবং আরেক ভাইয়ের কাছ থেকে বাকি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে একরাম নামের ওই ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে দেন। কিন্তু টাকা দেয়ার এক বছর হলেও আলীর চাকরি হয়নি।
চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত দেয়ার কথা বললে ছাত্রলীগের একরাম বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন বলে জানান তিনি।
এই ঘটনার জের ধরেই ভাতিজাকে হত্যা করা হতে পারে বলে অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলী।
এ ব্যাপারে সিলেট কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় আটক পূর্ণজিৎ দাস ও রাহুল কান্তি দে বাসু কে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
কী কারণে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।