জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ | ০৬ মে, ২০১৯
প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা লাখ টাকা মূল্যের পুরনো একটি মেহগনি গাছ হঠাৎ করে পরিণত হয়েছে নারিকেল গাছে! মেহগনি গাছটি রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রির পর সেটি আড়াল করতেই মূলত মেহগনির গোঁড়ায় ৩/৪ফুটের একটি নারিকেল গাছ রোপণ করে রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এ নিয়ে এলাকায় নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার থেকে রামধানা গ্রামবাসী দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সর্বশেষ আজ সোমবার দুপুরে রামধানা গ্রামের প্রবীণ আব্দুল ওয়াদুদ বিএসসির সভাপতিত্বে বিদ্যালয় মিলনায়তনে রামধানা, কামালপুর গ্রামবাসী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে বৈঠক করা হয়েছে।
এর আগে রোববার দুপুরে প্রথমে বিদ্যালয় মাঠে ও পরে রাত ৯টারদিকে রামধানা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের বাড়িতে বৈঠক করেছেন রামধানা গ্রামবাসী।
গ্রামবাসী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের দাবি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম লাখ টাকার ওই মেহগনি গাছটি রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছেন। আর সকলের চোখে ফাঁকি দিতে বিক্রি করা মেহগনি গাছের গোঁড়ায় নারিকেল গাছের চারাও রোপণ করে রাখেন তিনি।
একাধিক বৈঠকের কথা স্বীকার করে রামধানা গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী আব্দুল ওয়াদুদ বিএসসি, প্রাক্তন মেম্বার জুনাব আলী বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম লাখ টাকা মূল্যের ওই গাছটি চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছেন। আর আজকের বৈঠকে তিনি গাছটি পুনরায় বিদ্যালয়ে এনে দেওয়ার জন্যে অঙ্গীকারও করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম দায় স্বীকার করে বলেন মেহগনি গাছটি তিনি বিক্রি করেন নি, সেটি অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন।
তবে প্রধান শিক্ষক দায় স্বীকার করলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সালেহ আহমদ তোতা এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন।
তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, মেহগনির জায়গায় নারিকেল রোপণের বিষয়টি সোমবার বিদ্যালয়ে বৈঠকে গিয়ে তিনি জেনেছেন। গাছ সরানোর আগে কিংবা পরে প্রধান শিক্ষক তাকে কিছুই জানান নি।