Sylhet Today 24 PRINT

বাহুবলে চালককে হত্যার পর লাশ ফেলে গাড়ি নিয়ে পালায় দুর্বৃত্তরা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি  |  ২৩ মে, ২০১৯

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মোশারফ নামে এক গাড়িচালকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করেছেন ঘাতকরা।

বুধবার রাতে গ্রেপ্তারকৃত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি সালাউদ্দিন মীর মিলন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান আলম প্রধানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে এ ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন।

এর আগে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান দুই হত্যাকারীকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া কুতুবুর রহমান চৌধুরী।

আসামি মিলনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ২৭ মে ঢাকা থেকে ইউনিক গাড়িতে করে সিলেটে এসে জাফলং যাওয়ার জন্য মোশারফ নামে এক গাড়িচালকের প্রাইভেটকার ভাড়া নেয় তিন দুর্বৃত্ত। সেখানে ঘুরে তারা সিলেট শহরে ফিরে যান।

পরে সেখান থেকে বিয়ার কিনে এর সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কৌশলে গাড়িচালককে পান করিয়ে অচেতন করেন।

আসামি শামীম চালক মোশারফকে গাড়িতে নিয়ে নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রূপশংকর এলাকায় চালককে গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মহাসড়কের পাশে মৃতদেহ ফেলে প্রাইভেটকার নিয়ে চলে যায়।

গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় নরসিংদী এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টের ভয়ে গাড়ি রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।

এদিকে বাহুবল থানাপুলিশ ২০১৮ সালের ২৮ মে মৃতদেহ উদ্ধার করলে স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর পেয়ে নিহত মোশারফের পরিবার বাহুবল থানায় এসে মৃতদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গাড়ির মালিক কামাল আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া কুতুবুর রহমান চৌধুরী জানান, মামলাটি থানা পুলিশ প্রথমে তদন্ত শুরু করে। পরে এটি হবিগঞ্জ পিবিআইতে স্থানান্তরিত করা হয়।

পিবিআইর পরিদর্শক মো. ফরিদুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গাড়িতে রক্ষিত একটি কেস স্লিপের সূত্র ধরে আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পরে বিভিন্ন কৌশল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে মো. শামীম ফকির (৪০) নামে একজনকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন রাতে বরিশালের উজিরপুর এলাকা থেকে সালাউদ্দিন মীর মিলন (২৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.