নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ আগস্ট, ২০১৫
সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রদানে আইনমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টা শেষ হয়েছে শনিবার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তদন্ত কাজ শেষ করতে পারে নি পুলিশ। ফলে ঐকন পর্যন্ত অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি।
আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত কাজ এক মাসের অধিক সময়েও শেষ না হওয়ায় সমালোচনা দেখা দেয়। বিশেষত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা রাজনের বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে দ্রুততম সময়ের মাধ্যমে এই হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্নের আশ্বাস দিলেও তদন্তকাজে ধীরগতিতে বিচার নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।
এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত ১২ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে একটি অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ৭২ ঘন্টার মধ্যেই এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
শনিবার আইনমন্ত্রী বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও জমা দেওয়া হয়নি অভিযোগপত্র। পুলিশ বলছে, এখনো তদন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় অভিযোগ পত্র জমা দেওয়া যায়নি। অভিযোগপত্র কবে দাখিল হবে তা-ও সঠিকভাবে বলতে পারছেন না পুলিশ।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ বলেন, রাজন হত্যা মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলছে। তদন্ত কাজ শেষ হলেই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। কবে নাগাদ দেওয়া যাবে তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা আশাবাদী অতি দ্রুতই এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জুলাই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজন হত্যা মামলাটি তড়িৎ গতিতে ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমি কথা বলেছি, আমাকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আগামী তিন/চার দিনের মধ্যে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হবে।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাওয়ে নৃশংস নির্যাতনে খুন করা হয় শিশু রাজনকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তবে এ হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে আটক হলেও তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। কামরুলকে পলাতক দেখিয়েই অভিযোগপত্র তৈরি করছে পুলিশ।