কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৮ মে, ২০১৯
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওরের ধূপাটিলা অংশে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল উদ্ধারের পর তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে ভ্রামমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি আক্তারের নেতৃত্বে অভিযানে নিষিদ্ধ এসব কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পর কেওলার হাওরে ভ্রামমাণ আদালতের অভিযানে কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হলেও খিরনি ও পলক নদীতে স্থাপন করা অসংখ্য বাঁশের খাটি অপসারণ করা হয় নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে নদীতে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বর্ষণে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে বন্যায় তলিয়ে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। বন্যা ও ঢলের এসব পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ উপজেলার নিম্নাঞ্চল শমশেরনগর, পতনউষার, মুন্সীবাজার ইউনিয়নসহ কেওলার হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীর মাধ্যমে মনুনদীতে। তবে ঢলে সৃষ্ট বন্যায় গোটা এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
এই সুযোগে শমশেরনগর কেছুলোটি, সতিঝির গ্রাম, পতনঊষারের ধুপাটিলা, মকাবিল, শ্রীসূর্য্য, হালাবাদি, মাইজগাও, পতনঊষার, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রূপষপুর, বনবিষ্ণপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় একটি অসাধু চক্র হাওর, জলাশয়ে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল পুতে মাছ শিকারে তৎপর হয়ে উঠে। কারেন্ট জালে আটকা পড়ে মাছের পোনা থেকে শুরু করে মা মাছ, সাপ, ব্যঙ, কুচিয়াসহ বিভিন্ন ধরণের জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলার খিরনি নদী, লাঘাটা ও পলক নদীতে অবৈধ বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করার কারণে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা ও মাছের গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে এসব বিষয়ে মৎস্য বিভাগকে অবহিত করা হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদপত্রে খবর প্রকাশ হওয়ার পর কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে ভ্রামমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি আক্তারের নেতৃত্বে হাওরের ধুপাটিলা অংশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদ উল্ল্যা, মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, শমশেরগর ফাঁড়ির এএসআই সহিদুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল উদ্ধারের পর তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।
ভ্রামমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি আক্তার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানে ১৮ হাজার ২শ’ মিটার জালের বাজারমূল্য হবে প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা।