হৃদয় দাশ শুভ, শ্রীমঙ্গল | ২০ জুন, ২০১৯
চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকরা। এসব ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলতে স্থানীয়রা অভ্যস্ত হয়ে গেলেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা।
শ্রীমঙ্গলের চা বাগানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোর প্রশংসা করলেও খারাপ রাস্তার জন্য শ্রীমঙ্গল থেকে ফেরার সময় বিরূপ মন্তব্য করে যাচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে এসব রাস্তায় কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ পর্যটকদের।
শহরের চৌমোহনা থেকে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কের সরকারি খাদ্যগুদাম পর্যন্ত রাস্তাটি ছোট বড় খানাখন্দে ভরা। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে রাস্তার মধ্যে তৈরি হওয়া এসব ছোট বড় গর্তে পানি জমে থাকে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে রেলগেইট থেকে সরকারি খাদ্য গুদাম পর্যন্ত রাস্তাটি। এই জায়গা দিয়ে যানবাহন অনেক কষ্ট করে চলাচল করছে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক এহসান আহমেদ বলেন, এখানকার সবই সুন্দর। তবে এখানকার রাস্তাঘাটগুলো ভালো না। দেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে হলে দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো করতে হবে। রাস্তাঘাটের উন্নতি করতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, চৌমোহনা থেকে রিকশা নিয়ে এই রাস্তায় আসতে চাইলে রিকশাওয়ালারা আসতে রাজি হয় না। যদিও বা আসে টাকা বাড়িয়ে দিতে হয়। শহরের চৌমোহনা থেকে বধ্যভূমি পর্যন্ত রাস্তার যে বেহাল দশা তা বলে শেষ হবে না। রাস্তার মাঝে মাঝে ছোট বড় অনেক গর্ত।
রেলগেইট থেকে সরকারি খাদ্যগুদাম পর্যন্ত এত খারাপ রাস্তা দিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করেন বলে জানান তারা (স্থানীয়রা)।
শ্রীমঙ্গল গ্রীনলীফ রেস্ট হাউজ ও ইকো ট্যুরিজমের পরিচালক এস. কে দাশ সুমন বলেন, পর্যটন নগরী হওয়ার কারণে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন। শ্রীমঙ্গলের ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা পর্যটকরা শ্রীমঙ্গল সম্পর্কে খুবই খারাপ ধারণা নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় ভাঙা রাস্তার কারণে পর্যটকরা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যেতে চান না। পর্যটকরা যে কি পরিমাণ গালাগাল দিয়ে যান এখানকার জনপ্রতিনিধিদের তা বলার বাইরে। আমাদের জোড় দাবি এসব ভাঙা রাস্তা সংস্থার করা হোক।
এদিকে এই ভাঙাচোরা সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা ৷ কখনো রিকশা উল্টে যাচ্ছে আবার কখনও টমটমের এক্সেল ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহনের চালকরা।
টমটম চালক শাহাজাহান মিয়া জানান, বৃষ্টি হলেই এই রেলগেইটের সামনের সড়কের গর্তগুলোতে পানি ভরে যায়। তাই অনুমানের উপর গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয় আমাদের।
মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, শমশেরনগর-শ্রীমঙ্গল রাস্তাটির কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তার কাজ বর্তমানে শমশেরনগর থেকে ভানুগাছ পর্যন্ত এসেছে। আমরা আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২০ দিনের মধ্যে পুরো রাস্তা কাজ শেষ করতে পারবো।