তপন কুমার দাস, বড়লেখা | ২০ আগস্ট, ২০১৫
গত দুই দিনের ভারি বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কের কাঁঠালতলী ও পানিধার এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়।
বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৫০ হেক্টরের রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বড়লেখা-শাহবাজপুর সিএন্ডবি সড়কের ডিগ্রি কলেজ এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে যায়। রাস্তাগুলোর প্রায় অধিকাংশ দুই ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এসব সড়ক পানিতে নিমজ্জিত থাকতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃত্রিম জলাবদ্ধতা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে দাঁড়িয়েছে। যত্রতত্র মাটি ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ আর পানি নিষ্কাষনের খাল-নালা ভরাট হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেও চরম জলবদ্ধতার শিকার হচ্ছে পৌরবাসী। তার উপর ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
এদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে ষাটমা খাল দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাষিত না হওয়ায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পৌরশহরে ২নং ওয়ার্ড এলাকার হাটবন্দ, কলেজ রোড, দক্ষিণ গ্রামতলা, রেলওয়ে কলোনি ও আদিত্যের মহাল এলাকা। অনেক বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
২নং ওয়ার্ডের গংঙ্গারজল এলাকার বাসা-বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় নিম্ন আয়ের অসহায় প্রায় ১০০ পরিবার বুধবার রাতে বড়লেখা ডিগ্রি কলেজের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর জেহীন সিদ্দিকী কলেজের দুটি রুম খুলে দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেন। কলোনি ও বাসা বাড়িতে হাটু পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকেই বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় নির্ঘুম রাত পার করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হেক্টরের উঠতি রোপা আমন ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আর বৃষ্টিপাত না হলে এবং দ্রুত পানি নেমে গেলে ধানের কোন ক্ষতি হবে না।