নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৫ আগস্ট, ২০১৯
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার ইজারাকৃত পশুর হাটে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। ফলে পৌর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। এদিকে পশুর হাটের এ ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে নেই সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ।
এ ব্যাপারে ইজারাদার পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলরসহ সচিবের নিকট মৌখিকভাবে অভিযোগ দায়ের করে জরুরী ভিত্তিতে আবর্জনা অপসারণের দাবী জানালেও পৌরসভার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ইজারাদাররা মনে করছেন এমন অবস্থা চলতে থাকলে লাভ তো দুরের কথা, এ বছর লোকসানের ভাগি বেশি গুনতে হবে।
সূত্র মতে, নবীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন দোকান, বাসা ও রেস্টুরেন্টের উচ্ছিষ্টসহ ময়লা আবর্জনা পৌরসভার লোকজন একাধিক নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে। এদিকে কোরবানির পশুর হাটকে সামনে রেখে পৌরসভার লোকজন নবীগঞ্জ শহরের ময়লা আবর্জনা একত্রিত করে গত ১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সালামতপুরস্থ নবীগঞ্জ পৌর পশুরহাট এলাকায় ফেলে আসে। যা একদিকে পশুর হাটের পরিবেশকে করে তুলেছে বিষাক্ত। পথচারীকে নাক-মুখ বন্ধ করে অতিক্রম করতে হচ্ছে ওই এলাকা। অপর দিকে পশুর হাট এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার কারণে হাটটি সম্প্রসারনের ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান বাজার ইজারাদার।
বাজার ইজারাদার জহিরুল হক সোহেল জানান, ২০১৬ সনের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যথাযথ নিয়মে পশুর হাটটি ইজারা গ্রহণ করি। সারা বছর টুকটাক আয় হলেও মুল টার্গেট থাকে কোরবানির পশুর হাট।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাজার ইজারা গ্রহণের প্রথম বছর মেয়রের নির্দেশে পৌর এলাকার বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করে পশুহাটে মাটি চাপা দেয়া হয়। পরে বৃষ্টিতে মাটি সরে গেলে কুকুর পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ হয়ে পড়ে দুর্গন্ধ। এবারও কোরবানির বাজারকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যমুলকভাবে পৌর এলাকার ময়লা আবর্জনা পশুর হাটে ফেলা হয়েছে। এ জন্য মেয়রকে দায়ী করেন তিনি।
গরু বিক্রেতা রহমত আলী বলেন, হাসিল ঘরের সামনে আবর্জনা ফেলায় মঙ্গলবারের পশুর হাট পরিচালনাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ কারণে পশুর হাটে ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতি কম হবে বলে তিনি আশংকা করছেন।
সোহেল মিয়া বলেন, তিনি ময়লা আবর্জনা অপসারণের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার অনুরোধ করলেও ৩ দিনেও তা অপসারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, তারা পৌরসভার একজন কর্ণধারের লোকজনের সাথে প্রতিযোগিতা করে তিনি বাজার ইজারা গ্রহণ করেন। ফলে তিনি এখন প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। আর পশুর হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
এদিকে ময়লা আবর্জনার স্তূপে থাকা ভাঙ্গা বৈদ্যুতিক বাল্ব, সেলুনের ব্যবহৃত ধারালো ব্লেড ও ভাঙ্গা কাচের বোতলে পড়ে ইতোমধ্যেই বাজারে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতা আহত হয়েছেন। পৌর কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকাণ্ডে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ পৌর সভার মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি সব সময় পৌর সভাকে ময়লা আবর্জনা মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধর্মঘটের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে তা ঠিক করা হবে। তবে ঈদেও আগেই পশুর হাটটি পরিষ্কার করা হবে।