নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ আগস্ট, ২০১৫
নিখোঁজের সাত দিনের মাথায়া উদ্ধার করা হয়েছে সিএনজি অটোরিকশা চালক শ্রীনন্দ পাত্রের (২২) লাশ। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন একটি হাওর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে শাহপরান থানা পুলিশ। শ্রীনন্দ শাহপরান থানার দলইপাড়ার মনিন্দ্র পাত্রের ছেলে। ২০ আগস্ট থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনায় ওই থানায় একটি মামলাও হয়েছিল।
শাহপরান থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীনন্দ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে, রাখালগঞ্জের পাশ্ববর্তী একটি হাওর থেকে অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শাহপরাণ থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ২০ আগস্ট সিনিএজি অটোরিকশা (সিলেট থ ১৩-০৮০৮) নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি শ্রীনন্দ। এরপর এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে তার পরিবার। এর ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ২২ আগস্ট রাত প্রায় ১১টায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও বাজার থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে অটোরিকশাটির জিম্মায় থাকা ৪ জনকে আটক করা হয়। তখনও পর্যন্ত শ্রীনন্দর কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তানজির আহমদ রুবেলকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মোগলাবাজার থানার রাখালগঞ্জের একটি হাওরে লাশ ভাসার খবরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে। এরপর লাশটি নিখোঁজ সিএনজি অটোরিকশা চালক শ্রীনন্দের বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পুলিশ জানায়, লাশের হাত ও পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই করতেই শ্রীনন্দকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শাহপরান থানার ওসি সাখওয়াত হোসেন জানান, ২০ আগস্ট রাতে নিখোজের পর ২১ আগস্ট তার পরিবার একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এরপর ফেঞ্জুগঞ্জ থেকে তার সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। আট দিনের মাথায় শ্রীনন্দের লাশ উদ্ধার হল।
নিহতের পরিবারসূত্র জানায়, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে শ্রীনন্দ পাত্র ছিলেন তৃতীয়। নিজের কেনা অটোরিকশাটি এক বছর ধরে চালিয়ে পরিবারের জন্যে আয়রোজগার করছিলেন তিনি। সূত্র জানায়, নিখোঁজের দিন রাত ৯টায় সর্বশেষ পরিবারের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় তার। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বিছনাকান্দিতে আছেন। এরপর পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ হয়ে যায়।