Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখায় পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার: অপমৃত্যু মামলার ১ মাস পর হত্যা মামলা

সিলেটটুডে ডেস্ক  |  ২৮ আগস্ট, ২০১৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানায় অপমৃত্যু মামলার প্রায় ১ মাস পর পুনরায় ৯ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। থানায় দায়ের করা হত্যা মামলা নং (১৭)। চক্রান্ত করে হত্যা মামলা দিয়ে আসামীদের ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ অভিযুক্তদের স্বজনদের।

এ মামলায় ৬ জন আছেন জেল হাজতে। গ্রেফতারকৃতদের পুলিশ ১ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে। এ মামলা প্রত্যাহার ও আসামীদের মুক্তির দাবীতে সচেতন বড়লেখাবাসীর ব্যানারে এবং বড়লেখা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা মাববন্ধন করেছেন সম্প্রতি।

বড়লেখা থানার মামলা, স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিনগর গ্রামের ছমির উদ্দিন কালার ছেলে হোসেন আহমদের ভাসমান লাশ গত ৮ জুলাই একই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের পুকুর থেকে উদ্ধার করে বড়লেখা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হাসান আহমদ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন (নং-৮)। কিন্তু তার অপমৃত্যু মামলার এজাহারে ঘটনাটি হত্যা কিংবা এতে সন্দেহভাজন কারো নাম উল্লেখ ছিল না। এছাড়া এ বিষয়ে তাদের পরিবারেরও কোন অভিযোগ ছিল না।

পরবর্তীতে প্রায় ১ মাস পর গত ১২ আগস্ট প্রভাবশালী মহলের চাপে দরখাস্তকারী হাসান আহমদ পুনরায় থানায় ৯ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলেন-উপজেলার চন্ডিনগর গ্রামের আব্দুল মলং এর ছেলে জামাল আহমদ, হবিব মিয়ার ছেলে ফারুক উদ্দিন, মোস্তফা উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন, তেরা মিয়ার পুত্র আব্দুল মতিন, ফারুক উদ্দিনের পুত্র ছাদিক আহমদ, একই গ্রামের শামীম আহমদ, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার তিরণ মিয়া, বিয়ানীবাজার উপজেলার মৃত আশাব আলীর পুত্র বদরুল ইসলাম, মুসলিম আলীর পুত্র ইকবাল হোসেন। এর মধ্যে ছাদিক আহমদ, ফারুক উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, শামীম আহমদ, আব্দুল মতিন, জামাল আহমদকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এ মামলায় বড়লেখা, বিয়ানীবাজার, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার একাধিক আসামীর নাম থাকায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৭ জুলাই রাতে নিহত হোসেন আহমদ রাতে স্থানীয় বাজার থেকে গরুর ঔষধ নিয়ে বাড়িতে এসে তার মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এসময় হোসেন তার মাকে জানায় বন্ধু মতিন ও জামাল তার সাথে আছে। কিন্তু রাত সে বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে পরিবারের লোকজন পাশের বাড়ির নাজিম উদ্দিনের পুকুরে তার ভাসমান লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলের আলামতে পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের ধারানা হয় নাজিম উদ্দিনের পুকুর পাড়ের নারিকেল গাছে নারিকেল পাড়তে গিয়ে হয়তো হোসেন অসাবধানতা বসত পুকুরে পড়ে মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার তাদের কোন অভিযোগ নেই বলে পুলিশকে জানায় এবং থানায় অপমৃত্যু মামলাও করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়, বড়লেখার বাইরে যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বাদী এদের অনেককে চিনেই না। প্রভাবশালী একটি মহল আসামীদের হয়ারনী করার উদ্দেশ্যে বাদীকে চাপে ফেলে এ হত্যা মামলা দায়ের করিয়েছে।

এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার ঘটনা সংক্রান্ত সত্য উদ্ঘাটনে তথ্য প্রমান সংগ্রহের জোর তৎপরতা অব্যাহত।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.