Sylhet Today 24 PRINT

শিগগিরই সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক নিয়োগ: সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৯ আগস্ট, ২০১৫

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, জাতীয় লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দেয়াই শিক্ষার মূল লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্যেই বর্তমান শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জন করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা সে কাজটি ক্রমান্বয়ে করে যাচ্ছি।

বিশ্বমানের শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এজন্য নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী হতে হবে। শিক্ষার সর্বক্ষেত্রে জ্ঞান রাখতে হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ও তথ্য প্রযুক্তিতে সিলেটের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। সেটি বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। অথচ এবার তা কমিয়ে জিডিপি’র ১.৪ শতাংশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। আরও মানবিক হতে হবে।

অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া অনেক কঠিন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গত সাড়ে ৬ বছর চেষ্টা করেছি। কাজ হয় না। অবশেষে এবার শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা কমেছে। শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।

চেম্বারের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটি সিলেটের কম্পিউটার সাইন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চৌধুরী মোহাম্মদ মোকাম্মেল ওয়াহিদ, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহসান হাবীব, লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমেল এমএস পীর, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুশান্ত আচার্য, চেম্বারের পরিচালক লায়েছ উদ্দিন, পরিচালক জিয়াউল হক, পরিচালক ও আইসিটি সাবকমিটির আহ্বায়ক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী প্রমুখ।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চেম্বারের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদ। ধন্যবাদ বক্তব্য দেন চেম্বারের সহসভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী মাকুম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চেম্বারের পরিচালক মো. সাহিদুর রহমান, পরিচালক এজাজ আহমদ চৌধুরী, পরিচালক আবু তাহের মো. শোয়েব, পরিচালক পিন্টু চক্রবর্তি, পরিচালক এহতেশামুল হক চৌধুরী, পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, পরিচালক আব্দুর রহমান, পরিচালক চন্দন সাহা, পরিচালক মো. বশিরুল হক প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মডেল হয়ে হয়ে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের দেশে প্রথম কথা হয় ২০০৮ সালে। ডিজিটাল বৃটেন হয়েছে ২০০৯ সালে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া হয়েছে ২০১৪ সালে। আর মালদ্বিপ ডিজিটাল হয়েছে ২০১৫ সালে। সুতরাং ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের মধ্যে মডেল দাবি করতে পারি।

ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের মানুষ দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে ১২ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতো আর এখন করে ৪ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সমতাভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। সারা দেশের সাড়ে ১৮ হাজার স্কুলে ল্যাপটপসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দিয়েছে। সরকার ২০২১ সালের আগেই গোটা দেশকে ডিজিটালাইজেশনের ভেতর নিয়ে আসতে চায়। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বাগত বক্তব্যে চেম্বারের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, প্রযুক্তির সাথে সিলেটের মানুষের ওতোপ্রতোভাবে সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তা বিকশিত হচ্ছে না। মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য শিগগিরই ই-সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের মানুষ প্রচুর পরিমাণে ইনকাম করছে। আমাদেরও করতে হবে। সে পথ বের করতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.