নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ আগস্ট, ২০১৫
বিজ্ঞান লেখক, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে এবং এ তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হবে জানিয়েছে তারা।
অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক দুই জঙ্গি মান্নান রাহি ওরফে মান্নান হীরা ওরফে মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে আবুল মুহিব এবং মোহাইমিন নোমান ওরফে এএম নোমানকে আটকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মির্জা আব্দুল্লাহ আল বাকী।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার ঘটনায় শুক্রবার ভোরে কানাইঘাটের পূর্ব পালজুড় গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে দুই সহোদরকে গ্রেফতার করে সিআইডি পুলিশ।
এর আগে পুলিশ স্থানীয় পত্রিকা সবুজ সিলেট এবং জাতীয় পত্রিকা দৈনিক সংবাদের ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে গ্রেফতার করে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করে এ সিআইডি কর্মকর্তা বলেন প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে, গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার বিকেলে মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করে সিআইডি টিম ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের জানানো হয়- মান্নান রাহি বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক আইডি রয়েছে। সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। সম্প্রতি সে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল।
মান্নান রাহি মুক্তমনা লেখকদের নিয়মিতভাবে হুমকি প্রদানকারী আটক জঙ্গি ফারাবী শাফিউর রহমানের সহযোগী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন আইডির আড়ালে তারা জঙ্গিবাদ প্রচার ও হুমকি দিত।
এছাড়াও মান্নান রাহির সহোদর মোহাইমিন নোমান ওরফে এএম নোমান কানাইঘাট এলাকার ঝিংগাবাড়ি মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র। এছাড়াও মোহাইমিন নোমান ওরফে এএম নোমানের বেশ কয়েকটি উগ্র বক্তব্য সিআইড টিম সংগ্রহ করে। সেই সূত্রসহ নানা ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মির্জা আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, এ ঘটনায় সিআইডি টিম ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও তাদের সহযোগী সংগঠন ঢাকা থেকে আরো ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে শ্যোন এরেস্ট দেখানোর জন্য আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ মে নগরীর সুবিদবাজারে নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই অনন্ত’র বড়ভাই রত্মেশ্বর দাশ বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় ৪জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯জুন সিআইডিতে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে। অনন্ত পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা অনন্ত সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ও মুক্তমনা ব্লগের ব্লগার ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার রোকন উদ্দিন, মেট্রোপলিটন পুলিশের (সদর) উপ কমিশনার রেজাউল করিম ও উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ ছাড়াও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।