নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ আগস্ট, ২০১৫
ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে ফটোসাংবদিক ইদ্রিস আলী অনেক আগে থেকেই অনুসরণ করতো বলে জানিয়েছেন অনন্ত'র বন্ধু মনির হোসাইন। শুক্রবার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে মনির জানিয়েছেন, অনন্ত'র সাথে ধর্ম নিয়ে প্রায়ই তর্ক করতো ইদ্রিস। তাকে অনুসরণ করতো।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে অনন্ত বিজয়ের সাথে ইদ্রিস আলীর পরিচয়, দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করেছেন মনির।
ফেসবুক স্ট্যাটাসের ব্যাপারে মনির হোসাইনের সাথে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডট কম থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইদ্রিস আলীর আচরণ সন্দেহজনক ছিলো বলে জানান। ২০০৭ সাল থেকে অনন্তর সাথে ইদ্রিসের পরিচয় বলেও জানান তিনি।
মনির হোসাইন বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক। অনন্ত বিজয় এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সম্প্রতি জার্মানিতে পাড়ি জমানো মনিরকে অনন্ত হত্যার পর প্রাণনাশের হুমকি প্রদন করা হয়েছিলো।
অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার ঘটনায় সিলেটের একটি স্থানীয় পত্রিকার ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলী বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন।
মনির হোসাইন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন-
'ফটোগ্রাফার ইদ্রিস আলির সাথে আমাদের পরিচয় হয় আমার ডিপার্টমেন্টের এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে। সেই সাথে অনন্তদা'র সাথেও। আমাদের "বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলে'র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে যেতো সে।নিউজ বা প্রেস রিলিজ ও ছবির নিচে ক্যাপশন সহকারে সে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সেগুলো ছাপাত।বিনিময়ে টাকা দিতে হতো। তো দাদা পাশ-টাশ দিয়ে কিছুদিন বেকার ছিলেন। এই ফাঁকে শখেই হোক, আর সময় কাটানোর জন্যই হোক জিন্দাবাজার, সিলেটে একটি নিউজ এজেন্সিতে মাস দু'য়েক চাকুরি করেন। সেখানেও সেই ইদ্রিস আলি কাজ করতো।অনন্ত'দার অফিস শেষ হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে যেতো। আমি, লিটন দাস অনন্ত'দা অফিস থেকে বের হয়ে আসলে হাটতে হাটতে কাজি ম্যানশনের বিপরীতে 'ইটালি রেস্টুরেন্টে' পিঁয়াজু, ছোলা, সিঙ্গারা খেতে যেতাম। তখন মাঝে মাঝে দেখতাম এই ইদ্রিস আলিও আমাদের পিছে পিছে আসতো, কথা বলতো। অনন্ত'দা এর কথা মাঝে মাঝে বলতেন। ইদ্রিস আলি আর তার আরেক কলিগ নাকি তার সাথে মাঝে মাঝে ধর্ম নিয়া, বিজ্ঞান নিয়া তর্ক-বিতর্ক করতো। এরপরই তিনি একটি এনজিওতে কিছুদিন চাকুরি করেন।পরে ব্যাংকে চাকুরি নিলেন। আমরাও এর কথা ভুলে গেছিলাম। কিন্তু ইদ্রিস আলি ভুলে নাই। সে ঠিকই তার কাজ করেছে। দাদার হত্যার সময় দাঁড়িয়ে থেকে ছবি তুলেছে!'
এ ব্যাপারে জার্মানিতে অবস্থানরত মনির হোসাইন সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইদ্রিস আলির সঙ্গে তাদের পরিচয় ২০০৭ সালের দিকে। অনন্ত বিজয়ের বাসাও চিনতো ইদ্রিস। বিভিন্ন সময় অনন্ত বিজয়ের পিছু নিতো সে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে সুবিদবাজারস্থ বাসা থেকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে নিজ পাড়ায় জঙ্গি মৌলবাদীর চাপাতির আঘাতে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। সন্ত্রাসীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ভাই রত্মেশ্বর দাশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চার আসামিকে দায়ি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
৭ জুন আলোচিত এই হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলী। রিমান্ড শেষে এখন জেলহাজতে আছেন ইদ্রিস।
শুক্রবার রাতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ হেল বাকী সাংবাদিকদের জানান, ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাছাই বাছাই করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এই মামলায় সিলেটের কানাইঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয় আরও দুই জনকে এবং ঢাকায় আটক হওয়া আরও পাঁচ জনকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়।