নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ আগস্ট, ২০১৫
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষের মত প্রকাশের অভিমত খর্ব করা হচ্ছে বলে বিবিসি সংলাপে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আলোচকরা।
সংলাপে অংশ নেওয়া অতিথিরা মনে করেন, উৎপাদন খরচ কমার পরেও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো গণবিরোধী পদক্ষেপ।
শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীর রিকাবি বাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়িামে অনুষ্ঠিত ‘বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে’র একশ সাতাশতম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিম হোসেইন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ড.মুনতাহা রকিব।
সংলাপে অংশ নেওয়া একজন দর্শকের প্রশ্ন ছিলো-উৎপাদন খরচ কমার পরেও বাংলাদেশে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো কতটা যুক্তিসঙ্গত। উত্তরে এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে অসংগতিপূর্ণ এ মূল্য গণবিরোধী। পাশ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে এ মূল্যের পার্থক্য অনেক বেশি। বিদ্যুতের ব্যবহারকারীরা কিন্তু একেবারেই সাধারণ মানুষ। তাই তাদের জন্য এ বাড়ানো অযৌক্তিক।
ড. মুনতাহা রকিব মনে করেন, এর প্রভাব পড়বে সুদূর প্রসারী। সরাসরি দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস বন্ধ করা এবং মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা গেলে বেশি ভালো হতো।
নাসিম হোসেইন বলেন, এর পূর্বে বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির দোহাই দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এবার তো বিশ্ব বাজারে মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এ সরকার আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করছে।
এম এ মান্নান বলেন, সরকার এর মাধ্যমে কোন লাভ করছে না বরং ভর্তুকি কমিয়ে ক্ষতি কমাচ্ছে। বিদ্যুৎ আমরা নিজেরা উৎপাদন করতে পারি না, বিদেশ থেকে আনতে হবে। প্রভাব পড়বে তবে তা কতটুকু তা অর্থনীতিবিদরা বিচার করবেন।
দেশের মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে তারপরও ঝুঁকি নিচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে নাসিম হোসেইন বলেন, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নেই, কর্মসংস্থান নেই তাই এই যুবকরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ব্যাংক যা দিয়েছে সেখানে বিশাল শুভঙ্করের ফাকি রয়েছে, যারা সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।
ড.মুনতাহা রকিব বলেন, দেশে কর্মমুখী শিক্ষা কার্যকর করা দরকার। আমাদের আয় বেড়ে যাওয়া মানেই কিন্তু সবাই কর্মজীবি বা বেকারত্ব নেই এমনটা নয়।
এম এ মান্নান বলেন, দেশের ভেতরে যথেস্ট পরিমান কাজের সুযোগ নেই এটা সত্যি তবে, বাইরে গিয়ে কাজ করার বাসনা আছে, এটা জাতিগত বিষয়।
অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্ন ছিলো-বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অভিযোগ দলকে নেতৃত্ব শূণ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর উত্তরে, নাসিম হোসেইন বলেন, সংবিধানের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে সরকার। বিএনপি’কে ভাঙার চেষ্টা করছে সরকার।
এম এ মান্নান বলেন, সরকার নয় আওয়ামীলীগ দল হিসেবে বিএনপিকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। বিএনপি’র সহিংসতা প্রতিরোধ করছে তারা। আর সেই খেলায় বিএনপি হেরে গেছে।
এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু বিএনপির নয়, সাধারন মানুষেরও মত প্রকাশের অধিকার খর্ব হচ্ছে। সরকারের এ ব্যাপারে নজর দেয়া উচিত।
মুনতাহা রকিব বলেন, একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা উচিত। বিবিসি বাংলা এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন যৌথভাবে আয়োজন করে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ।
এই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে দর্শকরা মতামত প্রকাশ এবং প্রশ্ন করতে পারেন উপস্থিত প্যানেল সদস্যদের কাছে।
অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।