বড়লেখা প্রতিনিধি | ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্ত্রী ইমা বেগমকে (২০) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েেছেন স্বামী জামাল উদ্দিন (২৩)। পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন বলে আদালতে বলেন জামাল।
গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বড়লেখার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ হাকিম হরিদাস কুমারের কাছে জামাল উদ্দিন এ স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালত তাঁকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। জামাল বড়লেখা সদর ইউনিয়নের গঙ্গারজল গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে।
গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গঙ্গারজল গ্রামে মৃত্যুর এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরদিন গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইমা বেগমের লাশ উদ্ধার করে। ইমা বেগম প্রায় সাত মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমা বেগম উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের বরথল গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। প্রায় বছরখানেক আগে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের গঙ্গারজল গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিনের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। গত রোববার রাতের খাবার শেষে ইমা বেগম স্বামীর সাথে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ইমার স্বামী ঘুম থেকে ওঠে বিছানায় তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানার ওপর শোয়া অবস্থাতে ইমা বেগমের লাশ উদ্ধার এবং তাঁর স্বামীকে সন্দেহজনক আটক করে। এই ঘটনায় ইমার বাবা জামাল উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে গত সোমবার রাতে বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা করেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বনিবনা ছিল না। প্রায়ই ঝগড়া হত। সে জন্য হত্যা করে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছে স্বামী। ঘটনার দিন বাড়িতে আর কেউ ছিল না। এই সুযোগ কাজে লাগায় জামাল। তাঁকে জেল হাজাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’