Sylhet Today 24 PRINT

গাজীপুরে হত্যা মামলার বাদী অপহৃত: বড়লেখা থেকে উদ্ধার

বড়লেখা প্রতিনিধি |  ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

গাজীপুর জেলার টঙ্গী থেকে অপহৃত হত্যা মামলার বাদী আরিফুল ইসলাম (২৯) কে মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে ৬ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার হাত-পা, চোখ বাঁধা ও গলায় ফাঁস লাগানো ছিল।

এলাকাবাসী, থানা পুলিশ, অপহৃত ব্যক্তি ও তার স্বজন সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গাজীপুর জেলার টঙ্গী সদর থানার নিশাতনগর গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম গাজীপুর চৌরাস্তা জজ কোর্টের সামনে থেকে অপহৃত হন। এদিন তিনি নিহত বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলার বাদী হিসেবে আদালতে হাজিরা দিতে যান। হাজিরার দেওয়ার পর একটি নীল রংয়ের প্রোভক্স কার তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে উঠায়। এর প্রায় ২০-২৫ মিনিট পর ওই ড্রাইবার আরো ২জন অপরিচিত লোককে গাড়িতে উঠায়। গাড়িতে উঠা ২জন লোক জুস পান করেন ও তাকে জুস পান করতে দেন। আরিফুল জুস পান করার পর অজ্ঞান হয়ে যায়। এর সে আর কিছু বুঝতে পারেনি। এদিকে ওই দিন সে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবার অনেক খোঁজা খুজি করেও তার সন্ধান পায়নি।

পরদিন শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তার খালাতো ভাই মো: আলমাছ আলী বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় একটি জি,ডি করেন। গাজীপুর সদর থানার এসআই এনামুল ইসলাম আরিফুল ইসলাম নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জি,ডি’র সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ ঘটিকার সময় অপহৃত আরিফুল ইসলামকে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের সোনারূপা চা বাগানের নিকটবর্তী হাকাইতি নাম স্থানের একটি টিলার ঢালে হাত-পা, চোখ, বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত মনে করে ফেলে যায় অপহরনকারীরা। আনুমানিক ১১ টার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে ফেরার পথে পথচারীরা হাত-পা, চোখ, বাঁধা অবস্থায় আরিফুলকে দেখতে পান। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসীর সহোযোগিতায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে বড়লেখা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর জ্ঞান ফেরে আরিফুলের। এর পর সে তার বাড়ির ঠিকানা ও স্বজনদের মোবাইল ফোন নম্বর উদ্ধারকারীদের দিয়ে অপহৃত হওয়ার ঘটনাটি বলে। তারা তার বাড়িতে যোগাযোগ করে তার অবস্থান জানান। সংবাদ পেয়ে তার স্বজনরা গাজীপুর সিটি করর্পোরেশনের ৫২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী আতাউর রহমান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হালিম মোল্লাকে সাথে নিয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা হাসপাতালে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়লেখা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে তার স্বজনরা তাকে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

বড়লেখা হাসাপাতালে অপহৃত আরিফুলের খালাতো ভাই মো: আলমাছ আলী ও মিন্নত আলী জানান, নিখোঁজের ২দিন পর একটি অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ফোন করে তাদের জানানো হয় জাহাঙ্গীর হত্যার মামলাটি তুলে নিলে আরিফুলকে জীবিত ফেরত দেওয়া হবে।

তিনি আরো জানান, পেশায় দিনমজুর আরিফুলের ছোট ভাই আশরাফুল ইসলামকে ২০০৮ সালের জুন মাসে ও বড়ভাই জাহাঙ্গীরকে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। এ দুটি হত্যা মামলার বাদী হলেন অপহৃত আরিফুল।

অপহৃত আরিফুল ইসলাম হাসপাতালে এ প্রতিনধিকে জানান, মামলার হাজিরা শেষে আমি কোর্টের সামনে একটি টং দোকানে বসে চা পান করছিলাম। এসময় নীল প্রোভক্স কারটি আমার সামনে এসে থামে এবং ড্রাইবার আমাকে চিনে বলে জানায়। গাড়ির ড্রাইবার আমাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে উঠায়। এর ২০-২৫ মিনিট পর আরো ২জন অপরিচিত লোক গাড়িতে উঠায় ড্রাইবার। তখন তারা জুস পান করছিল। আমাকে ও ড্রাইবারকে জুস পান করার জন্য দেওয়া হয়। জুসটি পান করার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এর পর জ্ঞান ফেরার পর আমি বুঝতে পারি একটি ঘরে আটকানো আছি। অহরণকারীরা আমাকে যে স্থানে ফেলে যায় এর আনুমানিক ১ ঘন্টা পূর্বে আমাকে একটি অপরিচিত ঘর থেকে বের করে চোখ বেঁধে নিয়ে আসা হয়। গাড়িটি তখন খুব দ্রুত গতিতে চলছিল। তার আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ওই টিলায় নিয়ে হাত-পা, চাখ বেঁধে ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে ফেলে রাখে। এসময় একজন বলে ওকে হত্যা করে ফেলি। অন্যজন বলে না ও এমনিতেই মারা যাবে বলে তার চলে যায়।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপহৃত আরিফুলকে স্বজদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.