মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সিলেটের গোয়াইনঘাটের প্রকৃতিকন্যা জাফলং রাধানগর দুবাগ গ্রামের তরুণ হিরন আহমদ হিরা। পেশায় করর্পোরেট মোবাইল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। শখের বসে ১টি ছাগল লালন পালন শুরু করেছিলেন ২০১৮ সালে। সেখান থেকেই গড়ে তোলেন ছাগলের খামার। তার ‘মায়ের দোয়া’ ছাগলের খামারটি এখন গোয়াইনঘাটের প্রধান ছাগল খামার।
জাফলংয়ে চারপাশে পাথর, বালির ব্যবসাই বেশি। এখানকার তরুণ ব্যবসায়ীরা পাথর, বালির ব্যবসার বিকল্প অন্য কিছু ভাবতে চান না। যেখানে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর জাফলং এলাকার মানুষজনের পাথর, বালি আর স্টোন ক্রাশিংমিলই প্রধান টার্গেট থাকে। সেখানে ঠিক উল্টো চিন্তা চেতনায় এগিয়ে চলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা হিরন আহমদ হিরা।
রাধানগর দুবাগ এলাকায় নিজের প্রচেষ্টায় তিনি গড়ে তুলেছেন ছাগল খামার। নিজের তহবিলের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা পুঁজি খাটিয়েছেন এই খামারে। বর্তমানে দেশী-বিদেশি ৯ থেকে ১০টি প্রজাতির ২৫টির মতো ছোট বড় ছাগল রয়েছে। তরুণ এই উদ্যোক্তা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার খামারের জন্য নিয়ে এসেছেন তোতাপাড়ি, বিটল, যমুনাপাড়ি, শিরহি, ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ নানা জাতের ছাগল। বাড়ীর একপাশে একটি মাচাং ঘরে এসব ছাগল থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। ঘাস, বিভিন্ন ধরনের গাছের পাতা, গমের ভুষি, এংকরের ভুষিসহ মিশ্র খাবার খাওয়ানো হয় ছাগলদের। উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ হতে সরাসরি পরিদর্শন সাপেক্ষ রোগ নির্ণয় চিকিৎসাপথ্য দেয়া হয়ে থাকে।
সরেজমিন দেখা যায়, জাফলং রাধানগর দুবাগ গ্রামের এই খামারে পরিদর্শনকালে দেখা যায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণী স্বাস্থ্য) লাবণী রানী বিশ্বাস এবং উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) মনির উদ্দিন খামারী হিরন আহমদ হিরার খামারের ছাগলগুলোকে চিকিৎসা প্রদান করছেন।
খামারের উদ্যোক্তা হিরন আহমদ হিরা বলেন, ২০১৮ সালে শখের বসে ১টি ক্রস ছাগির বাচ্চা কিনে আনি। সেই বাচ্চা বড় হয়ে ২টি বাচ্চা প্রসব করে। হঠাৎ চিন্তা চেতনায় আসে যেহেতু গ্রামীণ পরিবেশ, অনুকূল আবহাওয়া আছে এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে হয়তো লাভবান হতে পারি। এভাবে একে একে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিনে আনি বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল সমূহ। খামারের নাম দেই মায়ের দোয়া ছাগল খামার। বর্তমানে আমার খামারে বিভিন্ন বয়সী ছাগল আছে। কোন ধরনের ব্যাংক বা এনজিও ঋণ ছাড়াই এ খামার গড়ে তুলেছি।
লাভজনক এই উদ্যোগ আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে হিরার। কোন তফসিলি ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে সহজ শর্তে আর্থিক ঋণ পেলে তিনি খামারের পরিকল্পনা অনুসারে প্রসারিত করতে চান। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা চান হিরা।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণী স্বাস্থ্য) লাবণী রানী বিশ্বাস এবং উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) মনির উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ সব সময় উপজেলার গবাদি পশু হাঁস-মুরগি পালনকারী এবং উদ্যোক্তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত। এবং তাদের পশু সমূহের চিকিৎসা সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সবকটি ইউনিয়নেই এ রকম উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করি। এরই ধারাবাহিকতায় এই মায়ের দোয়া ছাগল খামারেও আমরা গবাদি পশু চিকিৎসা সেবায় এসেছি।