নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
উজানের ঢল আর গত ক’দিনের টানা বৃষ্টিতে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে গেছে। এসব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় সিলেটে ও সুনামগঞ্জের বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেক রাস্তাঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক লোক।
সিলেটের সবকটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে সুরমা এবং কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবাহ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় কানাইঘাট উপজেলায় বিপদসীমার ১.২২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট সদরে সুরমার প্রবাহ বিপদসীমার সেন্টিমিটার উপরে এবং সুনামগঞ্জে সুরমার পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই অবস্থা কুশিয়ারার পানি প্রবাহে। বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে প্রায় সবগুলো পয়েন্টেই পানি কয়েক সেন্টিমিটার করে কমেছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হচ্ছে। ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
অপরদিকে কানাইঘাট উপজেলায় সুমরা নদীর পানি ১.২২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় তথ্য মতে, এ উপজেলায় বানের জলে প্লাবিত হয়েছে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর ফসলী জমি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর মোহাহাম্মদ তারেক জানান, প্লাবিত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণা করে ব্যবস্থা নেয় হবে।
সুনামগঞ্জ জেলার কৃষি বিভাগ বলছে বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ২০ হাজার হেক্টর ফসলী জমি প্লাবিত হয়েছে। আর এলজিইডি’র তথ্যমতে এ জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকার।
এদিকে সুরমার পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেট নগরীরর বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। নগরীরর কুশিঘাট, মাছিমপুর, ছড়ারপার, ঘাসিটুলা এলাকায় সুরমার পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে বেশকিছু রাস্তাঘাট। পানি ঢুকেছে বস্তিঘর ও নিচু এলাকা অন্তত পাঁচশ’ ঘরে।
মংগলবার থেকে নগরীর মাছিমপুরে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন জলাবদ্ধ বস্তি এলাকার অন্তত একশ’ মানুষ।
সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড’র প্রধান উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা তাওহিদুল ইসলাম জানান, উজানের ঢল কমলে পানি কমতে শুরু করবে। তবে আমলসিদে পানি আর বাড়বেনা। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী আরো দু’একদিন পানি থাকবে। এরপর থেকে আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে। তবে যেসব স্থানে ভাঙ্গন রয়েছে সে স্থানগুলো মেরামতের পরিকল্পনার কথা জানান এই কর্মকর্তা।