Sylhet Today 24 PRINT

শাহরিয়ার মজুমদার : হত্যা না আত্মহত্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

শাহরিয়ার মজুমদারের মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা- এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর আখালিয়ার সুরমা আবাসিক এলাকা থেকে সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী শাহরিয়ার মজুমদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

তবে শাহরিয়ারের বন্ধুদের দাবি এ মৃত্যু রহস্যজনক। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যু রহস্য খতিয়ে দেখার দাবি তাদের। একই দাবি জানিয়েছে সিলেট গণজাগরণ মঞ্চও।

শাহরিয়ার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করে কিছু ড্রপ কোর্স শেষ করার জন্য ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর পরিবার চট্টগ্রাম থাকেন, তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে।

তিনি শাবিপ্রবি সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক ছিলেন। এছাড়া সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সাথে শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার প্রতিবাদে ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিষ্ট, সিলেট আয়োজিত মিছিলেও অংশ নেন তিনি।

ওই মিছিলে অংশ নেওয়ার পর থেকেই নতুন করে বিভিন্ন ধরণের হুমকি পাচ্ছিলেন শাহরিয়ার। এর আগে তাকে কাফনের কাপড় ও এর সঙ্গে চিরকূট পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। 

শাহরিয়ারের বন্ধু ও শাবি ছাত্রফ্রন্টের নেতা সুদিপ্ত জানান, শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বুধবারও ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী কর্মসূচীর আয়োজন করেন শাহরিয়ার। সেদিনও তাকে প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি দেখা গেছে।

তিনি বলেন, শাহরিয়ার কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারে না। এই মৃত্যু রহস্যজনক। তিনি সুষ্ঠ তদন্তের দবি জানান।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সিআইডির ক্রাইম সিন দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার ওসমানী হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

রহমতউল্লাহ বলেন, অনেকসময় বসা অবস্থায়ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। একে পার্শিয়াল সুইসাইড বলে।

শাহরিয়ারের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসার মেঝেতে মরদেহ পড়ে রয়েছে। পড়ার টেবিলের উপর তার লেপটপটিও চালু অবস্থায় রয়েছে।

নগরীর আখালিয়ার সুরমা আবাসিক এলাকার বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ৫৪ নম্বর বাসার ৩ তলায় অবস্থিত মেসের নিজ কক্ষে জানালায় বেল্ট দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শাহরিয়ারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

শাহরিয়ারের রুমমেট ও মেসমেটরা জানান, ওইদিন তিনি সারাদিন নিজ রুমেই ছিলেন, তাকে রুমে রেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা মেসে ফিরে অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ভেন্টিলেটর দিয়ে তাকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখে দরজা ভেঙ্গে গ্রীলের সাথে বেল্ট দিয়ে ফাঁস লাগানো থেকে তাকে নামিয়ে মৃত অবস্থায় পান, পরে  পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে রাত আনুমানিক ৯টায়  তাঁর লাশ উদ্ধার করে।

শাহরিয়ারের লাশ উদ্ধারের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়া, অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকসহ শাবি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান, সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু ও শাহরিয়ারের বন্ধু-সহপাঠীরা।

শাহরিয়ারের লাশ উদ্ধারের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিদুল ইসলাম সুমন ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন- ‘২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী থেকেই অনেক রাজাকারপ্রেমী জঙ্গীর চক্ষুশুল শাহরিয়ার। তখন থেকে সে বিভিন্ন সময়ে কিছু মৃত্যু পরোয়ানার মতো চিঠি, এবং অন্যান্য হুমকি পেয়েছে’।

শাহরিয়ারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন- ‘আমি ওর সেফটি নিয়ে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম - বলতাম একা চলাফেরা না করতে’।

শাহরিয়ারের মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারার কথা উল্লেখ করে সুমন লিখেন- ‘এখন ও রুমে একা থাকা অবস্থায় মারা গেলো, এবং সেটাকে সুইসাইড বলা হচ্ছে - আমি মেনে নিতে পারছি না’।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.