সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন চালকরা। মহাসড়কে সিএনজি চলাচলা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে আয় অর্ধেক কমে গেছে সিএনজি চালকদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পরেছেন যারা মহাজনের কাছ থেকে ভাড়ায় গাড়ী চালাচ্ছেন। একদিকে লোকাল সড়ক গুলোতে সিএনজি অটোরিকশার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে অন্যদিকে মহাসড়কের পাশে গ্যাস পাম্প থাকায় প্রয়োজন মতো গ্যাসের জন্যও মহাসড়কে প্রবেশ করতে পারছেন না সিএনজি চালকরা। ফলে বেকার হতে বসেছে কয়েক হাজার সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক। এমতাবস্থায় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অন্তত এসএমপিভুক্ত এলাকায় সিএনজি চলাচলের অনুমতি প্রদানের দাবীতে ১০ সেপ্টেম্বর মানব বন্ধনের ডাক দিয়েছেন। এ লক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মহাসড়কে সিএনজি-অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করলেও কার্যত অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটছে বাস এবং ট্রাকের সাথে-এমন মত প্রকাশ করেছেন সিএনজি শ্রমিকরা। বাস চালকদের প্রশিক্ষিত ও সড়ক উন্নয়ন না করে অল্প আয়ের এসব চালকদের মহাসড়কে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠন গুলো। শুধু তাই নয় মহাসড়কে পর্যাপ্ত লোকাল বাস না থাাকায় প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে গুঞ্জন চলছে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে লোকাল সড়ক গুলোতে গাড়ী ভাড়া বাড়িয়ে দিবেন শ্রমিক সংগঠন গুলো। যার ফলে শিক্ষার্থীসহ অল্প আয়ের মানুষদের দুর্ভোগের সিমা ছারিয়ে যাবে।
সরেজমিনে মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে ১ আগস্ট থেকে মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ কার্যকর হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশ টহলের কারনে মহাসড়কে সিএনজি-অটোরিকশা চলাচল একেবারেই নেই। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন সিএনজি চালক ও মালিকপক্ষ। আর দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের।
সিএনজি চালক ফয়ছল বলেন, মহাসড়ক ব্যবহার করতে না পারায় আয় রুজি কমে গেছে। এ অবস্থা বিদ্যমান থাকলে আ লিক সড়কে সিএনজির চাপ বেড়ে যাবে। যার ফলে আ লিক সড়কেও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাবে। আর দিনে তিন চারটির বেশি টিপ পাওয়া যাবেনা।
চন্ডিপুল সিএনজি শ্রমিক সংগঠনের সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, মহাসড়কে গাড়ী চালাব এটা আমাদের অধিকার। লোকাল সড়কে সিএনজি বেশি থাকায় আগের মতো আয় হচ্ছে না। বর্তমানে যা উপার্জন হচ্ছে তাতে মালিকের প্রতিদিনের জমা ৫শ’ টাকা দেওয়ার পর আমাদের আয় নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিকদের কথা ভেবে সরকারকে বিকল্প কোন ব্যবস্থা নিত হবে। অথবা চার লেন না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক ব্যবহার করতে দিতে হবে।
তবে এ সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিমত, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত সিএনজি চালকদের মহাসড়ক ব্যবহার করতে দেয়া উচিৎ। শুধু তাই নয় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে সংঘর্ষে উভয় গাড়ির চালকের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর সাথে মালিককেও শাস্তির বিধান রাখা উচিত। কেননা মালিকের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতেও চালক অনেক ক্ষেত্রে বেপরোয়া গাড়ি চালায়। আর বিআরটিএ কে কঠোর নজরদারী রাখতে হবে যেন কেউ প্রকৃত ভাবে চালক না হয়ে সনদ না পায়।
সিলেট জেলা অটোরিকশা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া বলেন, সিএনজি চালকদের কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই মহাসড়কে উঠতে দিচ্ছে না। সামান্য কারণেই পুলিশ আমাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা জরিমানা নিচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের অধিকাংশ চালকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা গাড়ি কিনে আনার সময় সরকারকে কর দিয়েছি, কর দেওয়ার পরও কেন আমাদেরকে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল করতে দিচ্ছে না। এছাড়া মহাসড়কের যে সকল স্থানে ক্রস করতে হয় সে সকল স্থানে ওভার পাস করা হোক। অনতি বিলম্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪ লেন করা, সকল প্রকার সিএনজি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়ারও দাবি জানান তিনি। বিকল্প পদ্ধতির পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়কে সিএনজি চলাচলের অনুমতির জোড় দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন শত শত শ্রমিকের দূর্ভোগ লাঘবে এসএমপিভূক্ত এলাকায় সিএনজি চলাচলের দাবীতে ১০ তারিখের মানব বন্ধন কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় শ্রমিক ভাইদের ন্যায্য দাবী আদায়ে জনসমর্থন লাভে ইতিমধ্যে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।