Sylhet Today 24 PRINT

দিরাই আ.লীগের সম্মেলন : ফিরল পুরনো বিরোধ

মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার, দিরাই |  ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

সম্মেলনকে কেন্দ্র সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের বিরোধ আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে সহযোগী সংগঠনগুলোর উপর। আগামী ২৪ নভেম্বর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীণ নেতাদের সাথে আলাপ করে জানান, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে গড়ে ওঠে। তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন রনদা প্রসাদ রায় চৌধুরী, সহ সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সর্দার। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন গণতন্ত্রী পার্টি নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগে যোগ দিলে শুরু হয় বিরোধ। বিরোধের জের ধরে ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে দিরাই বাজারে প্রকাশ্যে তৎকালীন উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি নান্টু রায় নিহত হন। এ হত্যার জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সামাদ আজাদের জামাতা আব্দুল কুদ্দুস ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সর্দারের অনুসারীদের দায়ী করেন। পরে আব্দুল কুদ্দুছ অভিমানে আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রনদা প্রসাদ রায় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। এরপর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলে আওয়ামীলীগ চলে যায় সুরঞ্জিত অনুসারীদের কবলে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বেঁচে থাকতে তাঁর অনুসারীদের মাঝে বিরোধ হলে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিরোধের নিষ্পত্তি করে দিতেন, তাঁর প্রয়াণে দলটি এখন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী ড.জয়া সেনগুপ্তা উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুয়েত প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুব হোসেন রেজু মিয়ার পক্ষে মাঠে নামেন আওয়ামীলীগের একাংশ। এ বিরোধ এখন আরও তুঙ্গে। বর্তমানে জয়া সেনগুপ্তা অনুসারীরা ২ ভাগে বিভক্ত। এছাড়াও রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট শামসুল ইসলামের অনুসারীরা। বর্তমানে দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী প্রদীপ রায় তার পরাজয়ের জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলয়ের অপরপক্ষকে দায়ী করে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সভা সমাবেশ চলছে পরস্পর কাদা ছুড়াছুড়ি।

২৪ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের এ বিরোধ আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে। ৩ বলয়ের লোকই দলের সভাপতি সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে নিতে জেলা এবং কেন্দ্রে জোর তদবির চালাচ্ছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। সভাপতি প্রার্থীরা হলেন বর্তমান সভাপতি আছাব উদ্দিন সর্দার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলতাব উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এডভোকেট সোহেল আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান বুলবুল। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা হলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অভিরাম তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন কুমার রায়, যুবলীগ নেতা মকসুদ আলম সহ একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

অপর দিকে পৌর আওয়ামী লীগ প্রায় চার বছর ধরে অভিভাবকহীন। একাধিক নেতাকর্মী জানান, দিরাই পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচনের কিছু দিন পূর্বে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুর রহমান বুলবুল দেশে আসেন। অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই পেয়ে যান দলীয় মনোনয়ন। পৌর নির্বাচনে আজিজুর রহমান বুলবুলকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণাকালে নেতাকর্মীদের তোপে মুখে পড়েন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পরে উপজেলার দত্তগ্রামে এলাকাবাসীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় পৌর নির্বাচনে আজিজুর রহমান বুলবুল কে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি জিতেও যান ভোটযুদ্ধে। এর পর আর পিছনে থাকাতে হয়নি তাকে। চার বছর আগে অনুষ্ঠিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। পদ নিয়ে চার বছর ধরে লন্ডনে আছেন তিনি। এক সদস্যদের পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি আজও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। মেয়র হয়েও অধিকাংশ সময় লন্ডনে থাকেন তিনি।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রঞ্জন রায় বলেন, আমরা প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী জয়া সেনগুপ্তার নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ। একটি সুবিধাবাদী চক্র আমাদের দলে বিরোধ সৃষ্টি করতে চায়, গত উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনীত করেছিল কিন্তু আমাদের দলের সুবিধাবাদীরা আমার নাম কেন্দ্রে পাঠায়নি, আমি তৃনমূলের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করেছি, এ নিয়ে বিভ্রান্তি চড়ানোর অবকাশ নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিরাম তালুকদার বলেন, আমাদের সংগঠনে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে কোনো বিরোধ নেই। আসন্ন উপজেলা সম্মেলনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন হউক সেটা আমি চাই।

পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজ দৌলা বলেন দীর্ঘদিন আগে তৎকালীন পৌর মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল কে সভাপতি করে এক সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন আমাদের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এরপর থেকে কমিটির কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

এব্যাপারে আজিজুর রহমান বুলবুল লন্ডনে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.