Sylhet Today 24 PRINT

কমলগঞ্জের ব্যবসায়ী হত্যা মামলার রায়ের তারিখ আবার পিছালো

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার তরুণ ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আবারও পিছিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মকবুল আহসান।

সোমবার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু রায় ঘোষণা না করে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ঘোষাণা করা হয়েছে।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ অগাস্ট ওই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিলো। কিন্তু ওইদিনও রায় পিছিয়ে দিয়েছিলন আদালত।

প্রসঙ্গত, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার গোপীনগর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে নয়াবাজারের তরুণ ব্যাবসায়ী আবদুল মজিদকে গত ২০১২ সালের ২৯ আগষ্ট বাড়িতে থেকে ডেকে নিয়ে রাতে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। নির্মম হত্যাকান্ডের নিন্দার ঝড় উঠে পতনউষার ইউনিয়নসহ কমলগঞ্জ উপজেলায়। তার অপরাধ ছিল প্রতিবেশি আজাদুর রহমানের মেয়ে আমেনা আক্তার জুই এর সাথে প্রেম।

প্রেমটি আসামি আজাদুর রহমান মেনে নিতে না পারায় ২৯ আগষ্ট রাতে মেয়ের দুই ভাই আসামি রুবেল মিয়া (২৪) ও আসামি জুয়েল মিয়া (২৩) রাতে আবদুল মজিদকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে প্রেমিকার বাড়ি নিয়ে যায়। রাতে খাওয়ানোর পর মজিদের হাত পা বেধে গাড় ভেঙ্গে, কান কেটে, কানে শিক ডুকিয়ে চোখ দুটি তুলে ফেলে এবং পুরুষাঙ্গ কেটে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে নৃশংসভাবে খুন করার পর লাশ মজিদের বাড়ির পিছনের ডোবায় ফেলে রাখে।

পরে অনেক খোঁজাখুজির পরদিন পুলিশ ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার করে।

এর পর ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর নিহত মজিদের বাবা আব্দুর রহমান আজাদুর রহমানকে প্রধান আসামীকে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলেও এলাকাবাসী প্রতিবাদের মুখে পুলিশ মামলার সাথে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ।

আসামীরা হলেন- রুবেল, জুয়েল, আজাদ, মুহিদ, মাসুক, আফরুজ, সাহিন, আজমান, ডলি, আলমা ও প্রেমিকা জুইকে।

পুলিশ ব্যাপক তদন্ত করে ২০১৩ সালের ৮ আগষ্ট ১১জনকে অভিযুক্ত করে মামলার ফাইনাল চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৪ আগষ্ট চার্জশিটটি মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালত মৌলভীবাজারে জমা করা হয়।

ওই চার্জশীটে ওঠে আসে মজিদ হত্যার নমুনা। প্রধান আসামী রুবেল মিয়া ও জুয়েল আহমদ ব্যবসায়ী মজিদকে ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে ডেকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায় ৩নং আসামী আজাদুর রহমানের শয়ন কে মজিদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাকী আসামী মুহিত মিয়া, আজমান মিয়া, মাসুক মিয়া, আফরোজ মিয়া, শাহীন মিয়া, জুয়েলের মা ডলি বেগম, রুবেলের মা আলমা বেগম ও কলেজ ছাত্রী আমিনা আক্তার জুঁই আলামত নষ্ট করা চেষ্টা হত্যা ঘটনায় সহায়তা করেছে।

এদিকে, মজিদ হত্যার রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তার স্বজনরা। তারা মামা ও মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রব জানান, মজিদ হত্যার সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হয়েছে। আদালত বিচার শেষে করেছে। এখন শুধু রায় ঘোষনার পালা। আমরা সেই রায়ের অপেক্ষায় আছি। আশাকরছি আসামীরা কোনভাবেই রক্ষা পাবে না।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.