Sylhet Today 24 PRINT

সিলেট সরকারি কলেজ: ২৬০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক

তীব্র শিক্ষক সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২০ নভেম্বর, ২০১৯

তীব্র শিক্ষক সঙ্কটে ভুগছে সিলেট সরকারি কলেজ। বর্তমানে এই কলেজটি প্রতি ২৬০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। কলেজে অনার্স কোর্স চালু হলেও তার জন্য তৈরি হয়নি শিক্ষকের আলাদা পদ।

৩৫ বছর ধরে এই কলেজে নেই উপাধ্যক্ষ। নেই স্থায়ী অধ্যক্ষও। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে কার্যক্রম। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে সিলেটের টিলাগড় এলাকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে।

১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ১৯২১ সালে সিলেট নগরীর পূর্বদিকে টিলাগড় এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬৪ সালে ওই কলেজের পাশেই প্রতিষ্ঠিত হয় মুরারিচাঁদ (এমসি) ইন্টারমিডিয়েট কলেজ নামে আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৮ সালে এই কলেজটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সিলেট সরকারি কলেজ।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা শাখার উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি (পাস) বিএ, বিএসএস ও বিবিএস বিষয়ে পাঠদান চলছে। ২০১৭-১৮ সেশন থেকে এতে চালু হয় স্নাতক (সম্মান) কোর্স। পাঁচটি বিষয়ে চার বছর মেয়াদী এইসব কোর্সে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রতি বিষয়ে ৫০ জন করে ২৫০ জন। দুই বছর ধরে চলতে থাকা অনার্স কোর্সে মোট শিক্ষার্থী ৫০০ জন। অনার্স কোর্স চালু হলেও তার জন্য সৃষ্টি শিক্ষকের আলাদা পদ।

সরকারি কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার। এর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ২৫ জন। ফলে প্রতি ২৬০ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ১ জন করে শিক্ষক।

যদিও শিক্ষানীতি অনুসারে কলেজ পর্যায়ে ছাত্র শিক্ষকের অনুপাত ৩০:১ হওয়ার কথা। আর আশির দশকে করা এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব কলেজে স্নাতক শ্রেণি আছে সেসব কলেজে প্রতিটি বিভাগে ৭জন করে শিক্ষক থাকার কথা। আইন অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে ডিগ্রি (পাস) অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু থাকলে শিক্ষক থাকবেন ১২জন।

অথচ সিলেট সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ মাত্র ১জন শিক্ষক দিয়ে চলছে। বাংলা বিভাগে ২ জন ও অর্থনীতি বিভাগে আছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষক।

বর্তমানে কলেজটিতে ৩০ পদের বিপরীতে ২৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

অনার্স কোর্স চালুর পর শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টির জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করা হয়। সর্বশেষ দুই বছর আগে আরও ২৫টি শিক্ষক পদ তৈরি জন্য কলেজের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও তা এখনও ঝুলে আছে। ফলে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষক দিয়েই চলছে অনার্সের ক্লাস।

সিলেট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন নাসিমা হক খান। তিনি অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকায় কলেজে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়ে কলেজটির সহকারী অধ্যাপক মো. ফয়জুল রহমান বলেন, বর্তমানে যে শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে তা পদবিন্যাস অনুসারে পূরণ করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

কলেজটির শ্রেণিকক্ষ সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, কলেজে ১০তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মিত হচ্ছে। শীঘ্রই এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ফলে এ সঙ্কট আর থাকবে না।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.