Sylhet Today 24 PRINT

বিদ্যুতের তারে ঝুলছে নেতাদের ছবি

সিলেটে আওয়ামী লীগের সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে পুরো নগরী ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ডে। রীতিমত প্রতিযোগিতা করে লাগানো হচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিল বোর্ড। যে যেখানে পারছেন ব্যানার, ফেস্টুন লাগাচ্ছেন। বাদ পড়েনি বিদ্যুতের তারও। নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারে ঝুলছে বিভিন্ন নেতাদের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন। ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনেও লাগানো হচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন। এর ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাতেই নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিতে ফেস্টুন লাগতে গিয়ে তৌফিক আহমদ নামে এক যুবক দুর্ঘটনার শিকার হন। ওই সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারে ঝুলে যান তৌফিক। পথচারীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

নগরী ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর রিকাবীবাজার, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন এলাকা, শাহজালাল মাজারের সম্মুখ, তালতলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের তারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলছে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন।

সিলেট নগরে বিদ্যুতের খুঁটি ও তারে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের তারে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি যতদূর জানি বিদ্যুতের তারে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে না।

বিদ্যুতের খুঁটিতে ফেস্টুন লাগতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবক ঝলসে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বিদ্যুতের তারে ব্যানার ফেস্টুন লাগানো ঠিক হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমিও শুনেছি। এটা অবশ্যই দুঃখজনক। বিদ্যুতের লাইন একটা স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়ে সবার সর্তক থাকা উচিত। সম্মেলন হবে তাই বলে এত ব্যানার, ফেস্টুন কেন লাগাতে হবে? নেতাদেরকে তাদের কর্মীদের এ বিষয়ে সর্তক করা উচিত।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীর কোনো জায়গায় ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড লাগাতে হলে সিসিকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সিলেট আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো অনুমতি নেননি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ট্যাক্সেশন অফিসার মো. রমিজ মিয়া বলেন, আমার জানামতে এসব ব্যানার, ফেস্টুন লাগানোর জন্য কেউ কোনো অনুমতি নেননি। কিন্তু নগরীর ভিতরে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড লাগানোর জন্য সিসিকের অনুমতি নিতে হয়।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের বৈদ্যুতিক শাখার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম বলেন, বিদ্যুতের তারে ব্যানার ফেস্টুন লাগানো অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এখন ঝুঁকি জেনেও কেউ লাগালে আমাদের কী করার আছে। তাছাড়া বিদ্যুতের লাইনগুলো মূলত পিডিবির এখানে ৪ তারের মধ্যে আমাদের মাত্র ১টি তার আছে। এখন বিদ্যুতের তার নিয়ে পিডিবি কিছু না করলে আমাদের কী করার আছে।

তিনি বলেন, ১১ বছর পর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে। তাই সবাই উৎসাহ উদ্দীপনায় ব্যানার, ফেস্টুন লাগাচ্ছেন। ব্যানার, ফেস্টুন লাগানোর ব্যাপারে সিসিকের নিয়ম থাকলেও তাদের উৎসাহ উদ্দীপনার কথা চিন্তা করে আমরা বাধা দিচ্ছি না। তার উপর তারা সরকারি দল। এখন আমরা ব্যানার, ফেস্টুন সরালে এখানে দলাদলি শুরু হবে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমার মনে হয় ব্যানার ফেস্টুনের এই বাড়াবাড়ি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত হয়েছেন। আমরা চাচ্ছি সিলেটের এই অবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা আসুক।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম বলেন, বিরোধী দলীয় মেয়র হওয়ার কারণে আমরা আরও বেশি বিপদে আছি। কারণ সরকার দলীয়রা ব্যানার লাগিয়েছেন। এখন বিরোধী দলীয় মেয়র এসব অপসরণ করলে রাজনৈতিক সমস্যায় পরতে হবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সম্মেলন শেষ হলে সিসিকের পক্ষ থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডগুলো অপসরণ করা হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.