Sylhet Today 24 PRINT

নগরীর ২৭ ওয়ার্ডে কোরবানির স্থান নির্ধারণ : অনেক স্থানের অস্থিত্বই নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আসন্ন ঈদুল আযহায় পশু কোরবানির জন্য নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশেন পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তালিকায় ৬ নং ওয়ার্ডের পশু কোরবানির স্থান হিসেবে চৌকিদেখী আবাসিক এলাকার খেলার মাঠের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, চৌকিদেখী এলাকায় এধরনের কোন মাঠই নেই।

এ ব্যাপারে ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম বলেন, চৌকিদেখী আবাসিক এলাকা খেলার মাঠ বলতে আমার ওয়ার্ডে কিছু নেই। এখন কিভাবে সেটি করা হল আমি নিজেই বুঝতে পারছিনা। এ ওয়ার্ডে বাসা-বাড়িতে কোরবাণীর পশু জবাই করার মত অনেকের জায়গা আছে।

১৬ নং ওয়ার্ডের পশু কোরবানির স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ধোপাদিঘীরপার। ধোপাদিঘীরপার কোথায় পশু জবাই করা হবে সেটির কোন উল্লেখ নেই। এছাড়া ওই এলাকায় কোনো খেলার মাঠও নেই।

এ বছর প্রথমবারের মতো ২৭ ওয়ার্ড ঈদে পশু কোরবানির জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক)। পরিবেশের স্বার্থে এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমন্বয়হীনতার কারনে প্রথমবছরেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

২৭ ওয়ার্ডে কোরবানীর পশু জবাইর নির্ধারিত অনেক জায়গার হদিসই মিলছে না। সিসিক’র কাগজে-কলমে অনেক এলাকার নাম উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এসব স্থানের কোনো অস্থিত্বই নেই। সরেজমিন কয়েকটি এলাকা ঘুরে সিসিক নির্ধারিত অনেক স্থানের হদিস মিলেনি।

আবার অনেক ওয়ার্ডে পশু জবাইর জন্য বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠ ও বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠকে নির্ধারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক কাউন্সিলরও ক্ষুদ্ধ সিসিক’র এমন সিদ্ধান্তে।

কোরবানির ঈদের বাকী আর মাত্র ৭ দিন। সিসিক পশু কোরবানির জায়গা নির্ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না নাগরিকরা। নেই কোনো প্রচার প্রচারণা।

ঈদে পশু জবাইর জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানগুলো হচ্ছে- ১ নং ওয়াডের্র আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ, ২ নং ওয়াডের্র পূরাতন মেডিকেল কলোনী মাঠ, ৩ নং ওয়াডের্র মেডিকেল কলোনী মাঠ, ৪ নং ওয়ার্ডের আম্বরখানা কলোনী মাঠ, ৫ নং ওয়ার্ডের গোয়াইপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন জেলা পরিষদ মাঠ, ৬ নং ওয়ার্ডের চৌকিদেখী আ/এ খেলার মাঠ, ৭ নং ওয়ার্ডের জালালাবাদ আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ, ৮ নং ওয়ার্ডের পাঠানটুলা স্কুল সংলগ্ন খেলার মাঠ, ৯ নং ওয়াডের্র বাগবাড়ি জবাইখানা, ১০ নং ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা মাঠ, ১১ নং ওয়ার্ডের লালাদিঘী পশ্চিমপার সংলগ্ন মাঠ, ১২ নং ওয়াডের্র শেখঘাট পিছের মূখ মাঠ, ১৩ নং ওয়াডের্র কাজির বাজার মাদ্রাসা মাঠ, ১৪ নং ওয়ার্ডের ছড়ারপার মাঠ, ১৫ নং ওয়ার্ডের মিরাবাজার স্কুল সংলগ্ন মাঠ, ১৬ নং ওয়ার্ডের ধোপাদিঘীর উত্তরপার, ১৭ নং ওয়ার্ডের কাজি জালাল উদ্দিন স্কুল সংলগ্ন মাঠ, ১৮ নং ওয়ার্ডের রায়নগর স্কুল মাঠ, ১৯ নং ওয়ার্ডের সোনারপাড়া স্কুল মাঠ, ২০ নং ওয়ার্ডের এমসি কলেজ মাঠ, ২১ নং ওয়ার্ডের লামাপাড়া স্কুল মাঠ, ২২ নং ওয়ার্ডের শাহজালাল উপশহর খেলার মাঠ, ২৩ নং ওয়ার্ডের মাছিমপুর স্কুল সংলগ্ন মাঠ, ২৫ নং ওয়ার্ডের বারোখলা জাহাজ বিল্ডিং সংলগ্ন মাঠ, ২৬ নং ওয়ার্ডের কদমতলী স্কুল সংলগ্ন মাঠ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের গোটাটিকর স্কুল সংলগ্ন মাঠ।

তালিকার অধিকাংশ এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নতুবা বিদ্যায় সংলগ্ন এলাকার মাঠকে।

৯ নং ওয়ার্ডের পশু জবাই করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বাগবাড়ি জবাইখানা। পাশাপাশি ৮ নং ওয়ার্ডের নাগরিকদের জন্য ৯ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাঠানটুলা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠ উল্লেখ করা হয়েছে। ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের মাঠ ছাড়া আশপাশে কোন মাঠ নেই।

ওই এলাকার বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমার জানা মতে বিদ্যালয়ের মাঠছাড়া আশপাশে কোন মাঠ নেই। বিদ্যালয়ে পশু কোরবাণী হলে শিক্ষাথীদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব পড়বে।

পাঠানটুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা আহমদ বলেন, কোরবানির স্থান নির্ধারণ করা উদ্যোগ ভাল। তবে বিদ্যালয়ের মাঠ নির্ধারণ করা উচিৎ হয়নি। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার স্কুল খোলা হবে। ১ অক্টোবর থেকে বিদ্যালয়ের মডেল টেস্ট। তিনি তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহবান জানান। তিনি জানান, স্কুল খোলার পর কোরবাণীর পশুর বর্জ্যে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়বে। এতে স্বাস্থ ঝুকি আরো বাড়বে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোখলিছুর রহমান কামরান বলেন, তার এলাকায় জবাইখানা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু পাঠানটুলা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ নির্ধারণের কোন তথ্য তার জানা নেই। আর এটি কিভাবে করা হয়েছে সেটিও তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ বলেন, পশু জবাইর জন্য কোন এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি তাকে এখনো জানানো হয়নি। আর পাঠানটুলা উচ্চ বিদ্যালয় তার ওয়ার্ডে নয়।

এ ব্যাপারে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী কয়েস বলেন, তার ওয়ার্ডের যে এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি পর্যাপ্ত নয়। অনেকের বাসা-বাড়ি ওই এলাকা থেকে অনেক দূরে। গরু জবাই করার পর মাংস নিয়ে বাড়ি ফেরা কোরবানি দাতাদের জন্য একটি কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দেখা দেবে।

তিনি বলেন, এমনিতেই ঈদের সময় যান চলাচল থাকে সীমিত। পশু জবাই করে সাধারণ মানুষকে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা। এ অবস্থায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে আরো আগে থেকেই উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ ছিল। এখন এটি বাস্তবায়ন দুঃসাধ্য ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান অনেক এলাকার নাম নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রথম এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে কিছুটা ভুল ত্রুটি থাকবেই। এটি যাতে বাস্তবায়ন করা হয় সেজন্য তারা প্রচার চালাচ্ছেন। আজ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.