নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
'দয়া কর/ এই খরায় আমার সমস্ত দেহ পুড়ে পুড়ে ছাই/ দয়া কর/ এই শহর শরীর সময় সকলই পুড়ে পুড়ে ছাই/ দয়া কর, ওগো বৃষ্টি/ ওগো বৃষ্টি তুমি তৃষিত শরীরে শহরের বুকে ঝড়ে ঝড়ে পড়।'
মৌসুমী ভৌমিকের এই গান সুরুজ মিয়া কখনো শুনেছেন কী না তা জানা যায় নি। তবে শুক্রবার দুপুরে তার কণ্ঠেও বৃষ্টির জন্য হাহাকার। বললেন, 'এইরহম গরম হইলে তো কাম কইরা খাওন যাইবো না। একটু বৃষ্টি নামলে দুনিয়াডা ঠান্ডা হইতো। শরীলডাও জুড়াইতো।'
সুরুজ মিয়া রিকশা চালক। দিনভর রিকশাচালিয়ে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে ঘর্মাক্ত শরীরে বসেছিলেন চৌহাট্টা এলাকায়।
ড্রাইভার যাবেন- জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, এমন অসহ্য গরমে রিকশা চালানো কতোটা কষ্টকর। তারপরই বৃষ্টিকে আহ্বান জানিয়ে উপরের উক্তি।
কেবল সুরুজ আলী নয় শুক্রবারের দাবদাহে পুড়েছেন সমস্ত নগরবাসীই। দিনভর অসহ্য গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠে নগরজীবন। টানা বৃষ্টির পরই এমন হঠ্যা তীব্র রোদের কারনে দেখা দিয়েছে রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাবও।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সিলেটের তাপমাত্রা ছিলো ৩৭.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা সিলেটে এবছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এরআগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৫ মার্চে ৩৭. ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সিলেটের তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, গরম খুব বেশি দিন থাকবে না। দু'একদিনের মধ্যেই বৃষ্টি নামবে।
শুক্রবার ছুটির দিন। অফিস-আদাতল, স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিলো। তবে তীব্র গরম ছুটির দিনেও শান্তি দেয় নি মানুষকে। আর শ্রমজীবী মানুষদের তো ছুটিছাটা নেই। এই অসহ্য গরমেও কাজ করতে হয়েছে তাদের।
দিনে নগরীেত চলচালকারী সকলেরই ছিলো ঘামে জবুথবু অবস্থা। গরমের কারনে ঘরেও শান্তি নেই। শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের। জ্বর-সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগবালাইও দেখা দিয়েছে।
একে তো তীব্র গরম তার উপর নগরীতে বিশ্রাম নেওয়ার মতো, একটু শীতল পরশ নেওয়ার মতো কােনো জায়গা নেই। নেই কোনো উদ্যান। ফলে ঘরমে ছটফট করেই দিন কেটেছে নগরবাসীর। নগরীর জালালাবাদ পার্কে শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে অনেক শ্রমজীবী মানুষকে। আর বিকেল হতেই একটু বাতাসের জন্য চাদনীঘাট ও কাজিরবাজার সেতুতে ভিড় করেছেন অনেকে।