বাহুবল প্রতিনিধি | ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
বাহুবলের ইসলামপুর-গোলগাঁও রোডে মাটি ও বালুবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর চলাচলে ৮ গ্রামবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার দশকাহনিয়া, ইসলামপুর, ডুমগাঁও, কসবাকরিমপুর, পশ্চিম ভাদেশ্বর, নিজগাঁও, পূর্ব ভাদেশ্বর ও সুন্দ্রাটিকি গ্রামের শতাধিক ভুক্তভোগীর যৌথ স্বাক্ষরিত এক অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, উল্লেখিত গ্রামগুলোর মধ্য দিয়ে গিয়েছে ইসলামপুর-গোলগাঁও সড়ক। ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। এই সড়ক ঘেঁষেই হাট-বাজার, দুইটি হাই স্কুল, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অগণিত মাদ্রাসা, মসজিদ ও দোকানপাট রয়েছে। তাই এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয় ওই ৮ গ্রামের বাসিন্ধাদের।
আঞ্চলিক এ সড়কটি ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ট্রাক-ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি ও বালু বহন করে। এতে প্রতিদিন ঘটে ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেকেই মারা যাচ্ছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এছাড়া দিনরাত শতাধিক ট্রাক-ট্রাক্টরের যাঁতাকলে ভাঙছে পিচঢালা সড়ক।
এসব বিষয় নিয়ে প্রায়ই ট্রাক-ট্রাক্টর চালকদের সাথে স্থানীয় লোকজনের ঝগড়া-বিবাদ হয়। ট্রাক-ট্রাক্টরের মাটি পড়ে পিচঢালা পথে শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালি সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ধুলোবালি উড়ে আশপাশের পরিবেশদূষণ ছাড়াও স্থানীয় লোকজনের সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট জনিত নানা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পিচঢালা পথে মাটি গলে পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।
উক্ত রাস্তা দিয়ে স্থানীয় লোকজনের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিতকরণ, ধুলোবালি ও কাঁদার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি এবং আঞ্চলিক সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে মাটি ও বালুবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এলাকাবাসী আবেদন জানান।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিগ্ধা তালুকদারের পক্ষে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন তার ব্যক্তিগত সহকারী।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের পক্ষে সুন্দ্রাটিকি এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, মাটিবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো ধ্বংসের পথে। এই সড়কে ছোটখাটো দুর্ঘটনাতো নিত্যদিনের সঙ্গী। তিন কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে গেলে তিন কিলো ধুলো গায়ে মাখতে হয় এই এলাকার বাসিন্দাদের।