নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
এমনিতে রাজনীতিতে তাদের অবস্থান দুই মেরুতে। তবে অবৈধ ব্যবসায় তারা সকলেই আবার একজোট। এই অবৈধ কারবারের অদ্ভূত ঐক্য কোরবানির পশুর হাটকে ঘিরে আরো মজবুত হয়েছে। সিলেটে ক্ষমতাশীল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি'র নেতাকর্মীরা এক হয়ে নিয়ন্ত্রন করছে অন্তত: দশটি অবৈধ পশুর হাট।
রাজনীতিতে এ দু’দলের মতপার্থক্য স্পষ্ট হলেও অবৈধ পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র।
এমনিতে অভিযোগ আছে, সিলেটে ব্যবসা বাণিজ্যে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামাত কোনো ভেদাভেদ নেই। এইসব বিপরীত আদর্শের নেতারা ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। আর এবার আসন্ন ঈদকে ঘিরে তারা নেমেছেন অভেধ পশুর হাট বসানোতে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীলীগ ও বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমঝোতার ভিত্তিতে অন্তত দশটি পশুর হাট বসানো ও নিয়ন্ত্রনের কাজ করছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এ বছর নগরীর কোথাও হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয় নি। শুধুমাত্র কাজির বাজারে পূর্বের মতই হাট বসানোর অনুমতি রয়েছে।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব হাট ছাড়াও অননুমোদিতভাবে নগরীতে ক্রীড়া কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাছিমপুর কয়েদির মাঠ, শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠ, এমসি কলেজ মাঠ, উপশহর সোনারপাড়া, বাগবাড়ি, গ্যাস অফিস সংলগ্ন মাছিমপুর সড়কে ও বাবনা পয়েন্ট এলাকায় অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে।
এছাড়াও নগরীর পুলিশ লাইন সংলগ্ন রিকাবিবাজার এলাকায় ভাসমান হাট চলছে।
সিটি করপোরেশনের অনুমতির তোয়াক্কা না করে বসানো এসব হাটের কারণে বিপাকে পড়েছেন বৈধ হাটের ইজারাদাররা। এসব অবৈধ হাটের কারণে নগরীর ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজারসহ বৈধ পশুরহাটগুলোর কেনাবেচা অনেকটাই কম হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ইজারাদাররা।
বৈধ হাটের ইজারাদারদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা পাইকারদের জিম্মি করে রাস্তায় পশুবাহী ট্রাক আটকে অবৈধ হাটে গরু নামিয়ে নিচ্ছেন।এ কাজে সরাসরি অংশগ্রহন করছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের তথাকথিত নেতাকর্মীরা।
অবৈধ হাটের ভাগবাটোয়ারায় বসে নেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। তারাও এসব অবৈধহাটে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দাপট খাটাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নগরীর শাহী ঈদগাহ সদর উপজেলা খেলার মাঠে ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান পাপ্পু, যুবলীগ নেতা শামীম আহমদ, ছাত্রদল নেতা শাহ সাইদুর রহমান হিরু ও এমএ মঈন খান বাবলুসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা অবৈধভাবে হাট বসিয়েছেন।
নগরীর মাছিমপুর ক্রীড়া কমপ্লেক্সের পাশে শ্রমিকলীগ নেতা আবুল কাহের ইজু, শামীম ইকবাল, ১৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ সিরাজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুশফিক জায়গীরদার অবৈধভাবে হাট বসিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া একই এলাকার কয়েদির মাঠে হাট বসিয়েছেন আনোয়ারুজ্জামানের লোকজন।
নগরীর এমসি কলেজ রোডে আনন্দ সংসদ মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুল গফফারের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে অবৈধ পশুর হাট।
প্রকাশ্যে এসব হাট পরিচালিত হলেও নীরব ভূমিকায় পালন করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও।
কাজিরবাজার গরুর হাটের ব্যবস্থাপক লুলন মাহমুদ সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেন, পথে পথে ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি হচ্ছে। জোর করে ট্রাক থেকে অবৈধ হাটে গরু নামিয়ে ফেলা হচ্ছে। যে কারণে ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও সিটি করপোরেশনের বৈধ পশুরহাট কাজিরবাজারে গরু নিয়ে আসতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নগরীর যানজট নিরসনে দিনে নগরীতে পশুবাহী ট্রাক ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ। আর রাতের ট্রাক ঢুকলে অবৈধ হাটের মালিকরা জোর করে ট্রাক থামিয়ে ব্যবসায়ীদের গরু নামাতে বাধ্য করছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামূল হাবিব এ ব্যাপারে জানান, এ বছর নগরীতে কোনো পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধ পশুর হাট যাতে না বসে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অবৈধ হাটের জন্য নগরবাসীর দুর্ভোগ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রুকন উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি জিরো টলারেন্সে রয়েছে। তবে অবৈধ পশুরহাট উচ্ছেদের দায়িত্ব পুলিশের না।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ হাট উচ্ছেদ করুক। পুলিশের সহায়তা চাইলে আমরা দেবো।