আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কামিনীপুর চর। গত বিএনপি সরকারের আমলে স্থানীয় সাংসদের নামে এই চর দখলের চেষ্টা করা হয়েছিলো। সেসময় তৎকালীন সাংসদ নজির হোসেনের নামে চরের নাম দেয়া হয়েছিলো নজিরপুর।
সে যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে এখন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেই দখলদার চক্র। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। স্থানীয় সাংসদও আওয়ামী লীগের। ফলে এবার আওয়ামী লীগ সাংসদের নামে ফের দখলে নেমেছে সেই চক্র। ফলে বদলে গেছে নামও। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নামে এখন নাম রাখা হয়েছে 'রতনপুর গ্রাম'।
ইতিমধ্যে চরের জায়গায় রতনপুর নাম দিয়ে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে দখলদাররা। চরের মধ্যে ঝুলানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে- 'প্রস্তাবিত গ্রাম রতনপুর, প্রতিষ্ঠাতা মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংসদ সদস্য ২২৪ সুনামগঞ্জ'।
জানা যায়, কামিনীপুর চর দখল নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ, পাল্টাপল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছে। তবু পিছু হঠে নি দখলবাজ চক্র। চক্রটি বিএনপির সময়ে বিএনপির আর আওয়ামীলীগের সময় আওয়মীলীগের পদপদবী ব্যবহার করে দখলের চেষ্টা করছে।
তবে চরদখল ও রতনপুর নামকরণের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।
তিনি বলেন, কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড করে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলে দিয়েছি।
সোনাপুর ও কামিনীপুর গ্রামবাসীসহ এলাকাবাসীরা জানান, দখলকৃত জমিতে স্বাধীনতার আগে থেকেই সোনাপুর ও চানপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর ও কামিনী পুরের কিছু লোকের ঘর বাড়ি ছিলো। নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর তারা নদীর পূর্বপাড় সোনাপুরে গিয়ে বসতি গড়েন। স্থানীয় একটি দখলদার চক্র এখন জায়গাটি দখল করতে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে এই চক্রটি ভুমি দখলের জন্য একাধিক বার সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসের কাছে 'নজিরপুর' নামে গ্রাম করার প্রস্তাব নিয়ে যায়। তবে সে যাত্রায় সফল হয়নি তারা।
সাম্প্রতি নজিরপুরের বদলে রতনপুর নাম ব্যবহার করে চরের মধ্যে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়।
চর দখলকার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকা জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পিয়ারী দেবনাথ জানান, আমরা আমাদের এমপি সাহেবের নামে গ্রাম করার জন্য সাইনবোর্ড দিয়েছি, আমি এর বেশী কিছু জানিনা, বিস্তারিত জানেন কামিনীপুরের জাকির হোসেন।
কামিনীপুরের জাকির হোসেন নিজেকে আওয়ামীলীগের কর্মী দাবী করে বলেন, আমি একা না আমরা গ্রামবাসী মিলে এমপি সাহেবের নামে গ্রাম করছি।
সোনাপুরের বাসিন্দা সুর্নিমল কর জানান, চরের অধিকাংশ জায়গার মালিকই সোনাপুর আর চানপুরের ৫০ জন। আমাদের ২৮ কেদার জায়গা অনেক আগেই আমাদের নামে রেকর্ড হয়েছে, এখন জোর করে এমপির নাম ব্যবহার করে দখল করতে চাইছে কিছু লোক।
জামালগঞ্জ সদরের ইউপি সদস্য কামিনীপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, চরের সব জায়গা ব্যক্তি মালিকানাধীন, হঠাৎ দেখি সাইনবোর্ড তাও আবার আমাদের এমপির নামে গ্রাম।
আমি বিষয়টি আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এভাবে সব জায়গায় এমপি সাহেবের নাম ব্যবহার ঠিক না।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শফি কামাল বলেন, চরের জায়গায় এই রকম সাইনবোর্ড দেওয়ার নিয়ম নেই, যেই দিয়ে থাকুক তাকে আবার খুলে নিতে হবে। অসহায় গৃহহীন কারো কাছ থেকে ঘরের কথা বলে টাকা নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।